বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ক্রিকেট বিশ্বের দুই পরাশক্তি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অন্দরে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। একদিকে, অজি বোর্ড তাদের অভিজ্ঞ পেস ত্রয়ীর ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা রাখছে। ভারতের নির্বাচকরা তখন রোহিত-কোহলি-জাদেজাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম এক দোটানায়।
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আসন্ন সাদা বলের সফর থেকে কামিন্স-হ্যাজেলউড-স্টার্কদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তবে অজি হেড কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোনো অবহেলা বা অবসাদের ছুটি নয়। বরং ২০২৭ সালের মূল মঞ্চে তাঁদের সেরা রূপে পাওয়ার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।
ম্যাকডোনাল্ডের ভাষায়, ‘আমাদের পুরো পরিকল্পনা জুড়েই ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে তাঁরা আছেন। বয়সের দিকে তাকলে দেখা যাবে এটাই তাদের শেষ বড় সুযোগ।’

হিসাব বলছে, বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়াকে ভারত ও ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে প্রায় ২০টি টেস্ট খেলতে হবে। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় স্টার্কের বয়স হবে ৩৮, হ্যাজেলউডের ৩৭ এবং কামিন্সের ৩৪। হ্যামস্ট্রিং কিংবা পিঠের পুরনো চোটের ভয় থাকলেও অস্ট্রেলিয়ারর দর্শন পরিষ্কার। আইসিসি ইভেন্টে অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই।
অস্ট্রেলিয়ার যখন এই স্পষ্ট অবস্থান, ভারতীয় ক্রিকেট তখন দাঁড়িয়ে এক জটিল রূপান্তরের মুখে। বিরাট কোহলির দুর্দান্ত ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা তাঁর পক্ষে কথা বললেও, আইপিএল ২০২৬-এ রোহিত শর্মার ইনজুরি সমস্যা তাঁর ওডিআই ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজের ওডিআই দলে দুজনেই আছেন বটে। তবে রোহিতের খেলা নির্ভর করছে ফিটনেস ছাড়পত্রের ওপর। অন্যদিকে, এই সিরিজ থেকে রবীন্দ্র জাদেজাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলোই ইঙ্গিত দেয় যে, ভারতীয় ক্রিকেট খুব শীঘ্রই এক নতুন ট্রানজিশনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

ভারতীয় নির্বাচকদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রমাণিত চ্যাম্পিয়নদের মাঠের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো, নাকি আগামী দিনের জন্য নতুন রক্ত তৈরি করা, কোনটি বেছে নেবে তারা? আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজই হয়তো তা স্পষ্ট করে দেবে। রোহিত-কোহলিরা ২০২৭ বিশ্বকাপের নীল নকশায় আছেন, নাকি ইতিমধ্যেই সোনালী প্রজন্মকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট।











