ম্যাচের সময় ঘনিয়ে আসলেই বোধহয় জুড বেলিংহ্যামের গোলের নেশা আকাশসম হয়। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিটা গায়ে জড়ানোর পর কতবারই অন্তিম মুহূর্তে প্রতিপক্ষের হৃদয় ছিঁড়ে বল জালে জড়িয়েছেন তিনি, দুই হাত উঁচু করে অহম দেখিয়েছেন। এবার ইতিহাদ দেখলো সেই দৃশ্য; ৯৩ মিনিটের সময় গোল করে ইতিহাদে ইতিহাস গড়লেন ইংলিশ বয়।
ফোরম্যান ব্যাকলাইনের দু’জনই মেকশিফট ডিফেন্ডার, একজন থেকেও নেই। অন্য কোন দল হলে হয়তো মাঠে নামার সাহসই পেতো না; কিন্তু নামটা যেহেতু রিয়াল মাদ্রিদ, বাজি তাই ধরতেই হয়। বাজি ধরতে হয় ওই এগারোজন হার না মানা সৈনিকের ওপর; যারা পিছিয়ে থেকেও হাসতে জানে, চোখের পলকে প্রতিপক্ষের বুক চিরে দিতে জানে।
আগের চার দেখায় আর্লিং হাল্যান্ড গোল করতে পারেননি, পঞ্চম দেখায় সেই৷ ঘাটতি পুষিয়ে দিতে চাইলেন বোধহয়। একাই দুই গোল করে দুইবার লিড এনে দিয়েছিলেন ম্যানসিটিকে, কিন্তু সেটা দমিয়ে রাখতে পারেনি রয়্যাল মাদ্রিদকে। বনের হিংস্র বাঘের মতই এক থাবায় ঘাড় মটকে তবেই মাঠ ছেড়েছে তাঁরা।

সত্যিই তো, স্রেফ এক থাবা লেগেছে অল হোয়াইটদের। ৮৬ মিনিট পর্যন্ত স্বাগতিকরাই তো এগিয়ে ছিল, গ্যালারি থেকে ভেসে আসা চিৎকারে তখন কান পাতা দায়। অথচ সদ্য বদলি হিসেবে নামা ব্রাহিম দিয়াজ পাত্তাই দিলেন না, নেমেই গোল করে বসলেন। যদিও সাবেক ক্লাব বলে কথা, উদযাপনে তাই থাকলো সম্মানের ছোঁয়া।
পরের গল্পটা তো সবারি জানা, রেফারি যখন বাঁশির সংকেতে ম্যাচ শেষের অপেক্ষায় তখনি নক আউট পাঞ্চ বেলিংহ্যামের। ৬৭ মিনিটের সময় দুধ-ভাত গোল মিসের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন হয়তো।
সিটিজেনদের আক্ষেপ হয়ে থাকবেন এডারসন; রিয়াল যখন হন্যে হয়ে গোল খুঁজছে তিনিই তো তখন পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয় গোলের বিল্ডআপ শুরু হয়েছিল তাঁর পাস থেকে, আবার সেভটাও ঠিকঠাক দিতে পারেননি। আর শেষ গোলের সময় আগেই লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন।

রিয়াল মাদ্রিদ আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বন্ধন বারবার মুগ্ধ করে ফুটবলপ্রেমীদের। সময় যখন প্রতিকূলে, পুরো বিশ্ব যখন প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় তখন সফেদ জার্সি পরা ওরা কয়েকজন হয়ে উঠে অপরাজেয়। তাই তো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চিরচেনা গানটা বেজে উঠলে আপনি আর দলটাকে দমিয়ে রাখতে পারবেন না, অদম্য গল্পের বাকিটা তোলা রইলো সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর জন্য।










