বয়কট-বয়কট খেলে মাঠে খেলতে নামল পাকিস্তান

সুপার ফোরে যাওয়ার পথে এই ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। যে জিতবে সে দলই যে যাবে পরের রাউন্ডে। 

পাকিস্তানের অনড় অবস্থানের কারণে ম্যাচ শুরুর সময় এক ঘন্টা পিছিয়ে খেলা গড়িয়েছে মাঠে। এশিয়া কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচ বয়কট করার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল পাকিস্তান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচের জন্যে টিম হোটেল ছাড়েনি তারা ম্যাচের দেড় ঘন্টা আগেও। স্বাভাবিক নিয়মে ম্যাচের প্রায় দুই ঘন্টা আগে দলগুলো ম্যাচের ভেন্যুর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায়। কিন্তু পাকিস্তান যায়নি।

মূলত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পরই পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট বেজায় চটেছে ‘হ্যান্ডশেক’ কাণ্ডে। ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক দ্বন্দের কারণে ম্যাচ শেষে সৌজন্যতামূলক ‘হ্যান্ডশেক’ করেনি ভারত। এ কারণে বেজায় চটে গিয়ে দলের ম্যানেজার অভিযোগ জানিয়েছিলেন ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের কাছে।

কিন্তু সেই নালিশের ভ্রুক্ষেপ করেননি পাইক্রফট। এমনকি তার বিরুদ্ধেও পাকিস্তানের অভিযোগ রয়েছে। ম্যাচের টস অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় তিনি দুই দলের অধিনায়কদের হাত মেলানো এড়িয়ে যেতে বলেছেন। এমনটিও জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের টিম ম্যানেজমেন্ট।

অ্যান্ডি পাইক্রফটের আচরণে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, ভারত ম্যাচের পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে পাঠায়নি তাদের অধিনায়ককে। এমনকি আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে প্রিভিউ ডে প্রেস কনফারেন্সও বয়কট করেছিল দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ম্যাচ বয়কটের মত কঠিন পদক্ষেপ নিতে চলেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এমন রুঢ় পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করবে সে হুঁশিয়ারি আগে থেকেই দিয়ে আসছিল।

কেবল অ্যান্ডি পাইক্রফটের অপসারণের পর তারা এশিয়া কাপে মাঠে নামবে বলে সাফ সাফ জানিয়ে দেয়। এরপর আরব আমিরাত এবং ওমানের শেখরাও এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেন, পাকিস্তানকে বোঝানোর চেষ্টা চালান। ম্যাচের আগের দিন রাতে আশ্বাস মিলেছিল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

কিন্তু ম্যাচের দিন পাকিস্তান নিজেদের অবস্থান শক্ত করে টিম হোটেল ত্যাগ করেনি। এরপর দফায় দফায় বিভিন্ন মহলের মধ্যে বৈঠক বসে। একটা পর্যায়ে অ্যান্ডি পাইক্রফট আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আঘা ও পাকিস্তানের টিম ম্যানেজারের কাছে। পাকিস্তানকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, আইসিসি অ্যান্ডি পাইফক্রফটের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের তদন্ত অতি দ্রুত শুরু করবে।

এরপরই মূলত পাকিস্তান দল তাদের টিম হোটেল ছেড়ে মাঠের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা পরে অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টায় অনুষ্ঠিত হয় টস, এরপর রাত ৯:৩০-এ ম্যাচ মাঠে গড়ায়। সুপার ফোরে যাওয়ার পথে এই ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। যে জিতবে সে দলই যে যাবে পরের রাউন্ডে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link