শঙ্কা উড়িয়ে দিল ভারত, জানিয়ে দিল ফাইনালের আগে প্রস্তুত তাঁদের মিডল অর্ডার। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিলক ভার্মা, সাঞ্জু স্যামসনরা শঙ্কাকে বাউন্ডারির ওপারে নিয়ে ফেলেছেন। প্রমাণ করেছেন, মিডল অর্ডারেও সমান শক্তিশালী ভারত। অভিষেক শর্মার আগ্রাসনে গড়ে দেওয়া ভীত্তির উপর দাঁড়িয়ে অনায়াসে ২০০ ছাড়াল ভারতের সংগ্রহ।
এবারের এশিয়া কাপে ভারতের টপ অর্ডারই জিতিয়েছে অধিকাংশ ম্যাচ। অভিষেক শর্মা নামক এক দানবের উড়ন্ত সূচনা ম্যাচে মোমেন্টাম পুরো ঠেলে দিয়েছে তাদের পক্ষে। টিম ইন্ডিয়ার মিডল অর্ডারকে খুব বেশি দুশ্চিন্তা মাথায় নিতে হয়নি। নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের প্রয়োজনীয়তাও পড়েনি। বেশ সহজেই তারা নিশ্চিত করেছে ফাইনালে নিজেদের স্থান।
তবে ফাইনালের আগে সবধরণের প্রস্তুতি অবশ্যই থাকা চাই। শিরোপা জয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে যেকোন অঘটনই তো ঘটে যেতে পারে। তেমন পরিস্থিতির জন্যে ভারতের মিডল অর্ডার প্রস্তত- সেই বার্তাই দিয়ে রাখলেন তিলক ভার্মারা। এদিন আবারও অভিষেক শর্মার প্রায় ২০০ স্ট্রাইকরেটের ঝড়ো ইনিংসে শুভ সূচনা পেয়ে যায় ভারত।

এরপর সুরিয়াকুমার যাদব ও হার্দিক পান্ডিয়া ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন বটে। কিন্তু আগ্রাসী দৃঢ়তার প্রতিমূর্তি হয়ে গেলেন সাঞ্জু স্যামসন ও তিলক ভার্মা। তাদের সাথে শেষের দিকে যুক্ত হলেন অক্ষর প্যাটেল। সাঞ্জুকে নিয়ে খানিকটা দুশ্চিন্তা ছিল ভারতের টিম ম্যানেমেন্টের। নিজের স্বভাবজাত পজিশন ওপেনিং ছেড়ে সাঞ্জুকে ব্যাট করতে হয়েছে মিডল অর্ডারে।
এই টুর্নামেন্টে বলার মত তেমন কিছুই করতে পারছিলেন না স্যামসন। তবুও টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে সময় দিয়ে গেল গোটা আসর জুড়েই। অবশেষে নিজের নতুন পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার শুরুটা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই করলেন সাঞ্জু স্যামসন। স্রেফ ২৩ বলে ৩৯ রানের ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের দেখা মিলল তার কাছ থেকে, তাও আবার বহুদিন বাদে।
এছাড়াও তিলক ভার্মা খুব একটা সুযোগ পাচ্ছিলেন না নিজের সামর্থ্য প্রদর্শনের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পেলেন, কাজেও লাগালেন। ৪৯ রানে অপরাজিত থাকলেন। প্রায় ১৪৪ স্ট্রাইকরেটে দলের আগ্রাসী আবহও বিনষ্ট হতে দেননি। শেষের দিকে নিজের ফিফটির জন্যেও খেললেননি। এখানেই বরং ভারত হয়ে ওঠে বিশ্বসেরা। এই মানসিকতাই তাদেরকে বানিয়েছে অপ্রতিরোধ্য।

শেষ দিকে অক্ষর প্যাটেলের ১৫ বলে ২১ রানের ক্যামিও ভারতের সংগ্রহকে নিয়ে গেছে ২০২ রান অবধি। পাকিস্তানের বিপক্ষে মেগা ফাইনালের আগে, দলের মিডল অর্ডারের দক্ষতা, সক্ষমতা, দৃঢ়তা আর আগ্রাসনের প্রস্তুতিটা হয়ে গেল বেশ ভালভাবেই। তাছাড়া আরও একবার সবার আগে দল বড়- সেই মানসিকতার দৃশ্যও এঁকে দিল টিম ইন্ডিয়ার মিডল অর্ডার।











