ওয়ানডে ধাঁচের একটা জুটি। তাতে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছাড়িয়েছে ১০০ রানের গণ্ডি। নড়বড়ে টেস্ট ওপেনিংয়ের ধাঁধা মেলানোর একটা উপায় হতে পারেন সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়।
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘন্টার মধ্যেই আয়ারল্যান্ডকে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহের যাত্রা থেমেছে ২৮৬ রানে। এই টেস্টে জয়লাভ করতে হলে, বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ তুলতে হবে। রানের চাকায় পিষ্ট করে আয়ারল্যান্ডকে করতে হবে কোণঠাসা।
সে পরিকল্পনায় ওপেনারদের ভূমিকা রাখতেই হতো। এদফা অবশ্য সাদমান ও জয় নিরাশ করলেন না। শুরুতে জয় একটু অস্বস্তি নিয়ে ব্যাটিং করেছেন বটে। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে সাবলীল হয়েছেন তিনি। সাদমান অবশ্য ধীরলয়ের শুরুটাকে পরবর্তীতে একটু গতিশীল করেছেন।

দুই জনে দেখেশুনে রানের চাকাকে রেখেছিলেন সচল। দিনের প্রথম সেশনেই বাংলাদেশ জয় ও সাদমানের ব্যাটে ব্যবধান নামিয়ে ফেলে ১৭৭ রানে। মধ্যাহ্ন বিরতিতে বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে গিয়েছে বিনা উইকেট হারিয়ে। গোটা দলের জন্যই এই বিষয়টি ভীষণ স্বস্তির বটে। এই স্বস্তির সন্ধানে বাংলাদেশ রীতিমত হন্যে হয়ে ঘুরেছে।
যদিও চলতি বছরেই বাংলাদেশ টেস্টে শতরান ছাড়ানো জুটি পেয়েছিল। কিন্তু তাতে অবশ্য দুই ব্যাটারই সমানতালে রান তোলার কাজটা করতে পারেননি। সিলেটের এই শত রান ছাড়ানো জুটিটা এখানেই বরং ব্যতিক্রম। দুই ওপেনারই তুলে নিয়েছেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। দলের স্কোরবোর্ডে রান যেমন স্বস্তি দেয়, তেমনি ব্যাটারদের নিজেদের নামের পাশের রান তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
এই আত্মবিশ্বাসই বাংলাদেশের টেস্ট ওপেনিংয়ের মিউজিক্যাল চেয়ারের সমাধান হতে পারে। জয়, সাদমান ও জাকির হাসান এই তিনজনকেই বাংলাদেশ টেস্টের ওপেনিংয়ের দায়িত্ব দিতে চেয়েছে। প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায়, সাইফ হাসান, এনামুল হক বিজয়দেরও বাজিয়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি।

শেষ অবধি এই জয়-সাদমান জুটি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলে তা বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ করে দিবে। সময় গড়িয়েছে অনেক। এবার অন্তত দায়িত্বটা তুলে নিতে হবে। জয়-সাদমান জুটি এখন স্রেফ ধারাবাহিক হওয়া জরুরি। তাদের কল্যাণে সেশন যেভাবে বাংলাদেশের হল, তেমন করে যেন টেস্টের ফলাফলও নিয়মিত বাংলাদেশের হয়- সেটাই বরং প্রত্যাশিত।










