সাঞ্জুকে স্মরণ করার সময় এসেছে?

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সাম্প্রতিক হারের পর সেই ঢেউয়ের তোড়ে এখন টালমাটাল ভারতীয় টপ অর্ডার। আর এই অস্থিরতার মাঝে একটি নামই বারবার ঘুরেফিরে আসছে - সঞ্জু স্যামসন।

ক্রিকেটের বাইশ গজে ভারতের জার্সি গায়ে জড়ানো মানেই যেন এক আকাশ সমান প্রত্যাশার চাপ। একটি জয় যেখানে উৎসবের জোয়ার আনে, একটি পরাজয় সেখানে তৈরি করে সমালোচনার উত্তাল ঢেউ। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সাম্প্রতিক হারের পর সেই ঢেউয়ের তোড়ে এখন টালমাটাল ভারতীয় টপ অর্ডার। আর এই অস্থিরতার মাঝে একটি নামই বারবার ঘুরেফিরে আসছে – সাঞ্জু স্যামসন।

ভারতীয় ইনিংসের শুরুটা এখন অনেকটা একঘেয়ে চিত্রনাট্যের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইনিংসের প্রথম ওভারে কোনো পার্ট টাইম অফ স্পিনার কে আক্রমণ নিয়ে আসে প্রতিপক্ষ। আর এতেই সাজঘরের পথ দেখেন কোন এক ভারতীয় ওপেনার। চলতি টুর্নামেন্টে খেলা পাঁচটি ম্যাচের চারটিতেই প্রতিপক্ষ এই একই কৌশলে ভারতকে কুপোকাত করেছে।

সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটের কণ্ঠেও দেখা মিলল এই একই উদ্বেগের সুর। তিনি অকপটে স্বীকার করলেন, ‘ইনিংসের শুরুতেই ০ রানে ১ উইকেট – এই দৃশ্যটি এখন প্রতি ম্যাচের নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই মরণফাঁদ ব্যাটারদের ওপর যে পাহাড়সম চাপ সৃষ্টি করছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।’

বিশ্বকাপের আগে দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে শুরু থেকেই দাপট দেখানো ভারত বিশ্বমঞ্চে যেন হাঁটছে উল্টো পথে। শুরুর ধাক্কা সামলাতে গিয়ে মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা হাত খুলে খেলার বদলে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ইনিংস মেরামতে। ঠিক এই সংকটকালেই অভিজ্ঞতার দাবি নিয়ে সামনে দাঁড়াচ্ছেন সাঞ্জু স্যামসন। যিনি একাদশে থাকলে প্রতিপক্ষের এই কৌশল বোধহয় ঢেলে সাজাতে হবে।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠটাও বেশ ভাববার মতো। সঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে যতটা উন্মাদনা, তার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ততটাই ম্লান। ২০২৫ সাল থেকে ওপেনার হিসেবে ১২টি ইনিংস খেলে তার গড় রান মাত্র ১৩! সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৩৭। সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, গত ১২টি ইনিংসে তিনি মাত্র দু’বার পাওয়ারপ্লে পার করতে পেরেছেন।

সব মিলিয়ে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এখন এক জটিল দ্বিধায়। একদিকে আছেন সেই যোদ্ধারা, যারা গত ১৮ মাস ভারতকে দু’হাত ভরে দিয়েছেন।  অন্যদিকে সাঞ্জুর মতো ডানহাতি ব্যাটার, যিনি ট্যাকটিকালি প্রতিপক্ষের অফ স্পিন অস্ত্রকে বেশ ভালোভাবেই সামাল দিতে পারেন।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link