ফিফা বিশ্বকাপে উড়ছে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা- স্বপ্ন চাইলেই হতে পারে সত্যি। বাংলাদেশের মেয়েরা দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বকাপের ঠিক দোড়গোড়ায়। তবে সেজন্য হতে হবে একটু হিসেবী। বাস্তবতা ও নিজেদের সামর্থ্য অনুসারে সাজাতে হবে কর্ম পরিকল্পনা। স্বপ্নটা এখন আর আকাশ-কুসুম না। এই বাংলার কাঁদায় বিশ্বকাপে আনন্দ খাবে লুটোপুটি।
এএফএসি নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ২-০ গোল ব্যবধানে হেরেছে। আর সেই পরাজয় থেকেই প্রবল হয়েছে বিশ্বকাপের স্বপ্ন। চীনের মত দলের বিপক্ষে এই সংক্ষিপ্ত স্কোরলাইনকে তাই ফলাও করে অর্জন হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু এখানেই সমস্ত কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে না পিটার বাটলারের শীষ্যদের।
আক্ষরিকভাবে চিন্তা করলে বাংলাদেশের মেয়েদের পরবর্তী ম্যাচে পরাজয়ের সম্ভাবনাই বেশি। উত্তর কোরিয়া যে আরও অধিক শক্তিশালী। নারী ফুটবল র্যাংকিংয়ে গোটা বিশ্বের নবম দল তারা। এমন শক্তিধর দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের লক্ষ্যই থাকবে যতটা সম্ভব কম গোলে হারা। যদিও চীনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আফঈদা খন্দকার বলেছেন আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

ময়দানে ঘটিয়ে ফেলা যায় অনেককিছুই। তবুও মেনে নিতে ক্ষতি নেই বাংলাদেশ হারতে চলেছে। শর্ত হচ্ছে সর্বনিম্ন ব্যবধানে পরাজয়। এরপরেও বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে না। সে জন্য প্রয়োজন হবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়। সেটা যেকোন ব্যবধানে হতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
৫৪ অবস্থানে থাকা মায়ানমারকে হারিয়ে তবেই তো এশিয়ান কাপের মূল পর্বের টিকিট কেটেছিল ঋতুপর্ণা চাকমারা। আর মাত্র পাঁচ ধাপ উপরে থাকা উজবেকিস্তানকে হারানোর বিশ্বাসটুকু রাখতেই পারে বাটলার ও তার দল। তাতে করে হয়ত হওয়া যাবে তিন গ্রুপের মধ্যে সেরা দুই তৃতীয় দলের একটি।
এশিয়ান কাপের তিন গ্রুপ থেকে মোট আটটি দল যাবে পরের রাউন্ডে। কোয়ার্টার ফাইনালে সেরা ছয় দলের একটি হতে পারলেই সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়া সম্ভব। আর যদি তেমনটি নাও ঘটে, তাহলে খুলবে অলিম্পিকসের দুয়ার, সেই সাথে বিশ্বকাপ প্লে-অফ খেলার সুযোগ। ঠিক সে কারণেই হিসেব কষে এগুতে হবে বাংলাদেশ দলকে।

সবগুলো দলের প্রথম ম্যাচ শেষে, তিন গ্রুপের সেরা তৃতীয় দলের তালিকায় তিন নম্বরে বাংলাদেশ অবস্থান করছে, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে। এই ব্যবধানটাই ঘোচাতে হবে যেকোন মূল্যে। শক্তিশালী চীনের বিরুদ্ধে যেভাবে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছেন মারিয়া মান্ডারা- সেটাই বরং ভরসা যোগাচ্ছে।
ঋতুরা নিশ্চয়ই বিভোর, বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নে। তাদের ডাগআউটে থাকা পিটার বাটলারও নিশ্চয়ই পরিকল্পনার ছক আঁকতে শুরু করে দিয়েছেন। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। আপাতত বিশ্বাসটুকুই বাংলাদেশের মেয়েদের সম্বল- ওদের দ্বারা সব সম্ভব।











