ইংলিশ রণতরী সেমিফাইনালের মঞ্চে ডুবিয়ে দিল ভারত। সাথে আরও একবার ফাইনাল টিকিটটা পকেটে ঢুকিয়ে নিল সুরিয়াকুমার যাদবের দল। ম্যাচ জিতে নিল সাত রানের ব্যবধানে। একদিকে যখন ভারতের উচ্ছ্বাস চলছে, অন্যপাশে আক্ষেপের জলোচ্ছ্বাস বয়ে গেছে ইংল্যান্ডের বুক চিরে। অসাধ্য যে সাধন করতে পারেনি তারা।
টস জিতে চেজ করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। সাথে জাগে প্রশ্ন, ভুল করলেন কি হ্যারি ব্রুক? পাওয়ার প্লেতেই বুঝিয়ে দিল সবকিছু। অভিষেক শর্মাকে থামানো গেলেও সাঞ্জু স্যামসন ধারণ করলেন অপ্রতিরোধ্য রূপ। যেন রূপকথার কোনো গল্প থেকে উঠে আসা নায়ক ছড়ি ঘোরাচ্ছে ওয়াংখেড়ের বুকে। অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়, অভাবনীয় সব শটে ভারতের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছে সাঞ্জু। ৮৯ রানে ফিরে গেলেও ভারতের পায়ের তলার মাটি শক্ত হয়ে গেছে ততক্ষণে।
এরপর দলগত ঝড় চলে। শিভম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, তিলক ভার্মারা গড়ে তোলেন রানের পাহাড়। ভারতের স্কোরবোর্ডে আসে ২৫৩ রান। যেন জয়ের সমস্ত বন্দোবস্ত ব্যাট হাতেই করে ফেলেছে স্বাগতিকরা।

সেমির চাপ, জয়ের স্বপ্নের মাঝে দাঁড়িয়ে বিশাল এক রানের বাধা। এ বাধা টপকাতে হলে অসাধ্যকে সাধন করতে হবে। তবে শুরুতেই হোঁচট খেয়ে বসে ইংল্যান্ড। মহাগুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ব্যর্থ হয়ে ফিরলেন ফিল সল্ট। হ্যারি ব্রুকও পারলেন না দলকে পথ দেখাতে। অগত্যা সব দায়দায়িত্ব কাঁধে পড়ল জশ বাটলারের।
তবে ব্যর্থ হলেন তিনিও। সব সম্ভাবনার জলাঞ্জলি দিয়ে ২৫ রানেই ফিরে গেলেন সাজঘরে।
বাকি গল্পটা এক জেদি তরুণের। জাত ইংলিশ রক্ত শরীরে বয়ে চলছে তাঁর। হাল ধরলেন জ্যাকব বেথেল। ভারতের বোলিং লাইনআপ চূর্ণবিচূর্ণ করতে লাগলেন। সেঞ্চুরি এলো বেথেলের ব্যাটে, জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়ল ইংল্যান্ড। অসম্ভবকে বুঝি সম্ভবই করে ফেলে তারা।
তিন ওভারে ৩৯ রানের সমীকরণ দাঁড়াল। ম্যাচে তখনও প্রবলভাবে আছে ইংল্যান্ড। তবে সেখান থেকে খেই হারিয়ে ফেলে তারা। শেষ ওভারে হিসাবটা দাঁড়ায় ৩০ রানে। যা আর টপকাতে পারেনি ইংল্যান্ড। থেমে যায় ২৪৬ রানে। ভারত ম্যাচ জিতে নেয় সাত রানের ব্যবধানে।

Share via:











