ক্রিকইনফোর প্রোফাইলে তাসকিন আহমেদের নামের পাশে লেখা আছে রাইট আর্ম ফাস্ট বোলার। তবে বাস্তবতা বলছে তাসকিন এখন আর ফাস্ট নন, নিদেনপক্ষে ৮-১০ কিলোমিটার গতি হারিয়ে ফেলেছেন। তবে তাঁর গতি কখনোই তাঁর মূল অস্ত্র না। চার-পাঁচ নম্বর স্টাম্পে নতুন বলটা লেন্থে পিচ করিয়ে মুভ করানোই তাসকিনের মূল অস্ত্র। আর এটাই তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বানিয়েছে।
বছরখানেক আগেও ব্যাটার ড্রাইভ বা ডিফেন্ড করলে বল চলে যেত কিপার কিংবা স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে। ব্যাটার কেবল হতবুদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আবার কখনও কখনও বিদ্যুৎগতিতে তেড়ে আসা বলে ব্যাটারের কোনো জবাব ছিল না। তাসকিনের পরিচয় পাওয়ার জন্য এই উদাহরণগুলোই তো যথেষ্ট।

তবে সেই ধারাটা হারিয়ে ফেলেছেন সময়ের সাথে সাথে। বারবার ইনজুরির সাথে লড়াই, মুটিয়ে যাওয়া শরীর আগের রিদমে কোনোভাবেই তাসকিনকে ফিরতে দিচ্ছে না। তবে অনেকদিন পর তাসকিনের সেই পুরনো ঝলক দেখা গেল তৃতীয় ওয়ানডেতে এসে।
শুরু থেকেই পুরনো রূপে ধরা দিলেন তাসকিন। শাহিবজাদা ফারহানকে ফেরালেন দুরন্ত এক শর্ট বলে। এরপর ভয়ঙ্কর ইনসুইংয়ে ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। অভিজ্ঞতা কোনো কাজেই আসেনি।

ব্যাটারদের মাঝে সেই পুরনো ভয়ের বীজ আবারও বুনে দিয়েছেন তাসকিন। অনেকদিন পর নতুন বলে যতক্ষণ বল করেছেন মনে হয়েছে এই বুঝি উইকেট গেল। ব্যাটারদের পুরোটা সময় পরীক্ষায় রেখেছেন।
এতগেলো নতুন বলে তাসকিনের ভয়াবহতা। পুরাতন বলে কি কম ভয় ছড়িয়েছেন? যখন দল বিপদে তখনই যে ত্রাতা হয়ে এসেছেন । সালমান আলী আঘার সাথে ফাহিম আশরাফের জুটি যখন জমে ক্ষীর, তখনই ফাহিমের স্টাম্প উপড়ে নিয়েছেন। ওখানেই বীরত্বগাথা শেষ হয়ে যায়নি। সেঞ্চুরি করা সালমানকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশের স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে তুলেছেন। ১০ ওভারে শিকার করেছেন চারখানা উইকেট। শেষমেষ বাংলাদেশ যে জিতেছে এর পেছনের অর্ধেক অবদানটা যে তাঁর নামেই লেখা। আর আকাশে বাতাসে স্বস্তির খবর একটাই, অচেনা হতে বসা তাসকিন ফিরে এসেছেন চিরচেনা রূপে।
Share via:











