দুরন্ত মুস্তাফিজ সত্যিকারের যোদ্ধা

আহত হওয়ার ঠিক পরের বলেই মুস্তাফিজ বোঝালেন তিনি এক লড়াকু যোদ্ধা। এই দৃঢ়চেতা মুস্তাফিজকে ঘিরে কোন আলোচনা হয়না, কারণ সহজ-সরল মুস্তাফিজ গ্ল্যামারের ধার ধারেন না।

ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেন। হাঁটুতে বাঁধা হল ব্যান্ডেজ। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে গেলেন বোলিং প্রান্তে। ছুড়লেন বল, হারিস রউফের খেলা শট আকাশ পাণে উঠে গেল। ক্যাচ! আহত হওয়ার ঠিক পরের বলেই মুস্তাফিজ বোঝালেন তিনি এক লড়াকু যোদ্ধা।

ম্যাচের তখন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। মুস্তাফিজের ছোড়া বলের শাহীন শাহ আফ্রিদির চালানো শক্তিশালী শট। প্রাণপণে বাঁচাতে চাইলেন মুস্তাফিজ। বল গিয়ে আঘাত করল তার পায়ে। হাঁটুর নিচের হাড়ে সজোরে আঘাত করে সেই বল। বাইশ গজেই শুয়ে কাতরালেন মুস্তাফিজ। এগিয়ে গেলন শাহীন। চারিদিকে দুশ্চিন্তার বলয়।

কিন্তু সবাইকে অবাক করে মুস্তাফিজ উঠে দাঁড়ালেন। বলও করলেন। গ্রামের মাঠে-ঘাটে দুরন্তপনা করা ছেলেটা এমন কত ব্যথাকে তোয়াক্কাও করেননি। কখনো নিজের বিষয়ে মুখ ফুটে কিছু বলেননি। তবে বাংলাদেশ দলের প্রতি তার যে দায়বদ্ধতা- সেটা আরও একটিবার ফুটিয়ে তুললেন দ্য কাটার মাস্টার।

তবে তার আগে মুস্তাফিজ আবারও ডেথ ওভারে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তারও আগে সালমান আঘার সাথে গড়া সাদ মাসুদের জুটিতে ভাঙন ঘটিয়েছিলেন তিনি। যে জুটি রীতিমত বাংলাদেশের গলার কাটায় পরিণত হয়েছিল। শেষে আবার সেই হারিস রউফকে ফেরালেন।

যখনই মনে হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন, ঠিক তখনই তিনি বাউন্স ব্যাক করেছেন। এমনকি আঘাতও তাকে দমাতে পারেনি। এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাউন্ডারি হজম করেও ভরকে যাননি মুস্তাফিজ। এই দৃঢ়চেতা মুস্তাফিজকে ঘিরে কোন আলোচনা হয়না, কারণ সহজ-সরল মুস্তাফিজ গ্ল্যামারের ধার ধারেন না।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link