ড্রেসিংরুমের দরজা ঠেলে ধীরপায়ে বেরিয়ে আসছেন রজত পাতিদার, হাঁটার ভঙ্গিতে অদ্ভুত এক স্থিরতা, কাঁধের ভরাট দৃঢ়তায় যেন ভেসে উঠছে আরেক পরিচিত ছায়া। মনে হয়, এই বুঝি মাহেন্দ্র সিং ধোনির আগমন! রজতের দুই কাঁধেই তো এখন চাপা পড়ে আছে বিশাল এক দায়, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু, আর আগ্রাসী ব্যাটিং দর্শনের পুরো ভার। তবে চাপের কাছে নতজানু হওয়া নয়, বরং ধোনির মতোই ঠান্ডা মাথায়, নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে সব সামলে নিচ্ছেন পাতিদার।
হেলমেটের ফাঁক গলে সোনালী চুলগুলো কাঁধ ছুয়েছে, হঠাৎ দেখে মনে পড়ে যাবে ২০০৭ সালের ধোনির কথা। ২০২৬-এ এসে রজত পাতিদার যে ধোনির পথেই হাঁটছেন। স্বল্পভাষি পাতিদারের ব্যাটটা কেবল একটা কথায় বলে চলছে, বলটাকে স্রেফ মারতে হবে।

চেন্নাই হোক কিংবা হায়দ্রাবাদ, পাতিদারের বার্তা পরিষ্কার, প্রতিপক্ষকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মারার বলটাকে গ্যালারিতে পাঠাতে তো হবেই, ভালোটাকে সমীহ করার সময়ই বা কোথায়! সেটার ঠিকানা যে হতে হবে সীমানার ওপারে।
আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ১২ বলে ৩২। দ্বিতীয় ম্যাচেও একই ধারায় ব্যাট চালালেন চেন্নাইয়ের বিপক্ষে। এবার সেটা ১৯ বলে অপরাজিত ৪৮। রজত যেন পরিণত হয়েছেন আরসিবির পাওয়ার হাউজে।

আগ্রাসন যে হুট করে তাঁর ব্যাটে এসে পড়েছে এমনটা নয়। এটা আগে থেকেই ছিল। তবে ২০২৬-এ রজত পাতিদার একটু ব্যতিক্রম। আগ্রাসনের চূড়ান্ত ধাপও তিনি ছাপিয়ে গেছেন। যেন ধোনির মন্ত্র বলে নিজেকে বানিয়েছেন বোলারদের যমদূত।
Share via:











