সবাই যখন ভেবে নেয় সব শেষ, সেই ভাবনার বিপরীত প্রান্তে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ নিজের ভাগ্য লেখে। ভেঙে পড়া, চুপসে যাওয়া পরিস্থিতিকে সামাল দেয় শক্ত হাতে। আমরা তাদের নায়ক বলি, সেই নায়কের নামটা সুরিয়ানশ সেগড়ে। যিনি পাঞ্জাব কিংসের উদ্ধারকারী জাহাজ হয়ে এলেন।
৩৬ রানে চার উইকেট নেই। পাঞ্জাব কিংসের টালমাটাল দশা, স্কোরবোর্ড চোখ রাঙানি দিচ্ছে, ড্রেসিংরুমের বাতাসেও ছিল অস্বস্তির ভার। বলগুলো যেন প্রশ্ন তুলছিল, এই ইনিংস কি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? ঠিক সেই মুহূর্তে ক্রিজে নামলেন এক আনকোরা তরুণ, সুরিয়ানশ সেগড়ে। বয়স কম, অভিজ্ঞতা সীমিত, কিন্তু চোখের কোণে ভয়হীন এক আগুন খেলা করছিল। এরপর যা হলো, তাঁকে বিদ্রোহ বলায় শ্রেয়।

২৯ বলে ৫৭ রানের ঝলমলে ইনিংস। প্রতিপক্ষ বোলারদের পরিকল্পনা ভেঙে, প্রয়োজনের সময় ঝড় তুলে তিনি যেন বলে দিলেন, এই ম্যাচ এখানেই শেষ নয়। মার্কাস স্টয়নিসের সাথে গড়েছেন ৭৯ রানের জুটি। একটা সময় মনে হচ্ছিল পাঞ্জাবের রান ১০০ ছাড়ানো অসম্ভব, সেটাই পরিণত হয়েছে ১৬৩ রানে। যার মূল কারিগর সুরিয়ানশ।
২৩ বছর বয়স, তবে ঠিকই জানেন দলের জন্য কখন কি করতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁকে ধরা হয় দলের ভারসাম্য হিসেবে। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরা তাঁর ভাণ্ডারে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। সেটারই প্রয়োগ দেখিয়েছেন।

অভিষেক ২০২৫ আসরে, তবে সেবার সক্ষমতা জানান দিতে পারননি। সুযোগটা কাজে লাগানো হয়নি। এই আসরে এক ম্যাচ খেলে তিন রানেই অপরাজিত থাকতে হয়েছে। সুযোগ আসেনি নিজেকে ভেতরে পুষে রাখা প্রতিভার বিস্ফোরণ ঘটাতে। তবে সেটা অবশেষে এলো, তাও এমন এক সময় যখন পাঞ্জাবের পায়ের তলায় মাটি নেই। আর যে বড় হতে চায়, সে সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে জানে।










