নাহিদ ভয়, কে করিবে জয়?

গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে গতি আর বাউন্সারের অগ্নেয়াস্ত্র ছুঁড়ে বদ করছেন। টেল-এন্ডার হুনাইন শাহ রুখে দাঁড়ানোর দুঃসাহস দেখিয়েছিল, ১৪৬ গতির তুফান উড়িয়ে দিল স্টাম্প। বলটা হাতে ওঠা মাত্রই নাহিদ রানার ভেতর থেকে ভেসে আসে এক অস্ফুট লাইন, আরি দুর্বার আমি ভেঙে করি সব চুরমার।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে গতি আর বাউন্সারের অগ্নেয়াস্ত্র ছুঁড়ে বদ করছেন। টেল-এন্ডার হুনাইন শাহ রুখে দাঁড়ানোর দুঃসাহস দেখিয়েছিল, ১৪৬ গতির তুফান উড়িয়ে দিল স্টাম্প। বলটা হাতে ওঠা মাত্রই নাহিদ রানার ভেতর থেকে ভেসে আসে এক অস্ফুট লাইন, আরি দুর্বার আমি ভেঙে করি সব চুরমার।

একটা ম্যাচ, একটা ফাইনাল, তার জন্য অনেকটা আকুতি-মিনতি করেই নাহিদকে চেয়েছিল পেশোয়ার জালমি। কেন একটা ম্যাচের জন্য নাহিদকেই দরকার? সব প্রশ্নের উত্তর মুখে বলে দিতে হয় না, ওটা নাহিদ রানারা দেখিয়ে দিতে জানেন।

প্রথম ওভারটা মনোপুত হয়নি। ১৩ রান খরচা হয়েছে। ওটা যেন তাতিয়ে দিল নাহিদকে। জেদের বারুদ জমা হয়েছে, বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে চোয়াল শক্ত করে যার দিকে ছুটে গেলেন, তিনি ম্যাক্সওয়েল। টি-টোয়েন্টি জামানার ত্রাস, তবে নাহিদ তার থোড়াই কেয়ার। তিনি জানেন কিভাবে ভরা তরির ভরা ডুবি করতে হয়।

বাংলার মাটি-কাদা গায়ে মেখে বড় হওয়া ছেলেটার সামনে দুনিয়ার কোনো ভয় যে অজেয় নয়। ম্যাক্সওয়েলের জন্য একটা বাউন্সারই তো যথেষ্ট। সেটাই হলো, অবাক বিস্ময়ে শুধু ম্যাক্সওয়েলই চেয়ে থাকেননি, গোটা বিশ্ব চেয়ে দেখেছে নাহিদ রানার ঔদ্ধত্য। এ বিশেষ ধাতুতে গড়া, ব্যাটারদের যমরাজ।

ফের যখন ফিরে এলেন, হুনাইন আর সায়িম আইয়ুব তখন পেশোয়ারের গলার কাঁটা। ওটা ভেঙে দিতে হবে, বাবর আজমের ভরসার হাতটা তাই নাহিদের কাঁধেই পড়ল। ও যে মন্ত্র জানে, ব্যাটারদের মাঝে ভয়ের বীজ বুনে দিতে জানে। আর তারই ফল আরাধ্য সব উইকেট। হুনাইনের সাথে মাইন্ডগেম খেললেন নাহিদ। শর্ট বলে সতর্ক করলেন তাঁকে, হার্ড লেন্থে বল ফেলে পরীক্ষা নিলেন, এরপরই স্টাম্প লক্ষ্য করে পারফেক্ট ইয়র্কার, ব্যস তাতেই ব্যাটার কুপোকাত। ওভারটা ছিল উইকেট-মেইডেন।

চার ওভার হাত ঘুরিয়েছেন, বিপ্লবী সত্তা লুফে নিয়েছে দুই উইকেট। আর বিনিময়ে খরচা মোটে ২২ রান। সবচেয়ে বড় কথা, নাহিদ ভয় ছড়িয়েছেন—যা জয় করার সাধ্য আছে কার?

Share via
Copy link