কেবল এই ফাইনালের জন্য এত কিছু। বাংলাদেশ থেকে নাহিদ রানা উড়ে পাকিস্তান গিয়েছিলেন কেবল এই ম্যাচটির জন্যই। আশাহত হননি, দলকে ডোবাননি, মাথা নিচু করে ছাড়তে হয়নি মাঠ। পেশোয়ার জালমির হয়ে যে লক্ষ্য নিয়ে ২২ গজে নেমেছিলেন, সেই শিরোপা নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন নাহিদ। দলকে যেমন জিতিয়েছেন তেমনি নিজেও জিতে নিয়েছেন সবার মন।
শুরুতে কয়েকটা ম্যাচ খেলেছিলেন নাহিদ। তারপর দেশের ডাকে চলে আসতে হয়েছিল নিউজিল্যান্ড সিরিজ খেলার জন্য। ওয়ানডে সিরিজ রাঙিয়ে দিয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার নিয়েই পাড়ি দিয়েছেন আবার পাকিস্তানে। যার ফলাদল, পেশোয়ার জালমি চ্যাম্পিয়ন।
এদিন আগে বল করার সিদ্ধান্ত নেন পেশোয়ারের অধিনায়ক বাবর আজম। তাঁর সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে দেন নাহিদ রানা, অ্যারন হার্ডিরা মিলে। বোলারদের তান্ডবের মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হয় হায়দ্রাবাদ কিংসম্যানকে।

এক সাইম আইয়ুব লড়াই করেছিলেন কিছুটা। কিন্তু, বাকি কোনো ব্যাটার তাঁর যোগ্য সঙ্গী হতে পারেননি ফাইনালের এই বড় মঞ্চে। নাহিদ ফেরান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আর হুনাইন শাহকে। সাথে হার্ডি নেন চার উইকেট। তাতেই হায়দ্রাবাদ স্কোরবোর্ডে জমা করতে পারে মাত্র ১২৯ রান।
লক্ষ্য বেশি বড় নয়। ১২০ বলে ১৩০ রান করতে পারলেই হাতে উঠবে পিএসএলের শিরোপা। কিন্তু, সহজ তাড়ার ম্যাচে ফাইনালকে রোমাঞ্চকর করার জন্য শুরুতে হোঁচট খান পেশোয়ারের ব্যাটাররা। ইনিংসের তৃতীয় বলেই সাজঘরের পথে হাঁটা ধরেন মোহাম্মদ হারিস। পুরোনো ফর্মে ফিরে আসা বাবর আজম প্রথম বলেই ফিরে যান সাজঘরে। ব্যাট হাসেনি কুশাল মেন্ডিসেরও।
তখনই আবার নায়ক হয়ে আসলেন হার্ডি। অনবদ্য বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও দলের হাল সামলানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। আব্দুল সামাদকে সাথী করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন কাঙ্খিত গন্তব্যের দিকে। সামাদ ৪৮ রান করে ফিরলেও হার্ডি ঠিকই ফিফটি তুলে নিয়েছেন। একেবারে দলকে পাঁচ উইকেটে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন।

ফয়াফল পক্ষে না আসলে নাহিদের পুরো যাত্রাটাই বৃথা যেত হয়তো। ফিরে আসতে হত পিএসএল শিরোপা না ছুঁয়েই। সেটা হয়নি, বরং নিজের প্রথম বিদেশি ফ্র্যাঞ্জাইজি লিগেই জয়ীর মুকুট হাতে পেয়েছেন। আর, পুরো আসর দাপট দেখানো পেশোয়ার জালমি দীর্ঘ নয় বছরের অপেক্ষার পর আবারও ঘরে তুলেছে কাঙ্খিত ট্রফি।










