বিপিএলে ফিক্সিংয়ের দায়ে পাঁচজনের সাজা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২০২৫ আসরে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অন্তত পাঁচজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। দ্রুতই বড় রকমের শাস্তির ঘোষণা আসবে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২০২৫ আসরে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অন্তত পাঁচজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। দ্রুতই বড় রকমের শাস্তির ঘোষণা আসবে বলেও দাবি করেন তিনি।

তামিম জানান, তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচজনের নাম সামনে এনেছে, তারা হলেন – দুই টিম ম্যানেজার মোহাম্মদ লাবলুর রহমান, রেজওয়ান কবির সিদ্দিক ও সামিনুর রহমান, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক মোহাম্মদ তৌহিদুল হক, ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার। রেড ফ্ল্যাগধারী কয়েকজন শীর্ষ ক্রিকেটারের নাম আগে-পরে শোনা গেলেও বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। সব ধরণের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বিসিবি তাঁদের সাময়িক ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তৎকালীন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় সেই কমিটি।

পরে প্রতিবেদনটি বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট প্রধান অ্যালেক্স-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে কয়েকজন ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। পাঁচজন ক্রিকেটার বড় ধরনের শাস্তি পেতে যাচ্ছেন।’

ফিক্সিংয়ের পাশাপাশি বিপিএলের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। তামিম জানান, একটি স্বনামধন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ছাড়া এবারের বিপিএলে কেউই ব্যাংক গ্যারান্টির নিয়ম ঠিকভাবে মানেনি।

তাঁর ভাষায়, বিপিএল আয়োজন করতে গিয়ে বিসিবিকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আগে এই টুর্নামেন্ট লাভ করত। এখন ১৪-১৬ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে আর কতদিন চলবে? যদি যথাযথ ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাই, তাহলে বিপিএল করা উচিত কি না, সেটা ভাবতে হবে।’

জোড়াতালি দিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পক্ষেও নন তামিম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘শুধু করার জন্য বিপিএল করার থেকে না করাই ভালো। নিয়মিত বিপিএল হওয়া উচিত, কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা ফ্র্যাঞ্চাইজি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহা। তিনি জানান, সবশেষ আসরে দুটি দলের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিই ছিল না। বিশেষ করে সিলেট স্ট্রাইকার্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিষয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক দুর্বলতা ছিল। এছাড়া চট্টগ্রাম রয়্যালসের দায়িত্বও পরে বিসিবিকে নিতে হয়।

ফাহিম বলেন, ‘বিসিবির ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামনে যেন এমন না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে চাই। খেলোয়াড়দের চুক্তি প্রক্রিয়াতেও বিসিবি দিকনির্দেশনা দেবে।’

ফিক্সিং বিতর্ক, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক জটিলতা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে ২০২৫ সালের বিপিএল ছিল সমালোচনায় ঘেরা। আর সেই বাস্তবতায় এবার বিসিবির পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলল।

Share via
Copy link