প্লে অফের সমীকরণে কলকাতা

কয়েক সপ্তাহ আগেও যাদের প্লে অফের স্বপ্ন অলীক কল্পনা বলে মনে হচ্ছিল, মে মাসের কাঠফাটা রোদে সেই নাইটরাই এখন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ডার্ক হর্স।

ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। এই প্রবাদটি যেন চলতি আইপিএলে আবারও প্রমাণ করে ছাড়ল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কয়েক সপ্তাহ আগেও যাদের প্লে অফের স্বপ্ন অলীক কল্পনা বলে মনে হচ্ছিল, মে মাসের কাঠফাটা রোদে সেই নাইটরাই এখন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ডার্ক হর্স।

এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে কেকেআর শিবিরের চিত্রটা ছিল ধূসর। ১৯তম আসরের শুরু থেকে জয়ের খরা কাটছিলই না। একমাত্র পয়েন্টটি এসেছিল ইডেনের বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ম্যাচে।

কিন্তু অজিঙ্কা রাহানের ধারালো অধিনায়কত্বে ঘুরে দাঁড়িয়েছে গঙ্গাপাড়ের এই ফ্র‍্যাঞ্চাইজিটি। টানা চার ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে তারা এখন লিগ টেবিলের সপ্তম স্থানে। দশ ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন চেন্নাইয়ের ঘাড়ে নি:শ্বাস ফেলছে।

আইপিএলের ইতিহাস সাক্ষী, ১৬ পয়েন্টের কোটা পার করতে পারলেই প্লে-অফের দরজা খুলে যায়। কলকাতার সামনে এখন চার ম্যাচ বাকি। সহজ সমীকরণে গেলে চারটাই তাদের জন্য নক আউট ম্যাচ।

যদি অবশিষ্ট এই চার ম্যাচেই নাইটরা বিজয়ঝাণ্ডা ওড়াতে পারে, তবে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে কোনো নেট রান রেটের জটিলতা ছাড়াই তারা সরাসরি সেমিফাইনালে পা রাখবে। তবে একটি পরাজয়ই পুরো সমীকরণকে রান রেটের গোলকধাঁধায় ফেলে দিতে পারে।

সেক্ষেত্রে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে চেন্নাই সুপার কিংসসহ অন্যান্য দলের দিকে। আরসিবি, রাজস্থান, গুজরাট – তিন দলই দশ ম্যাচ শেষে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি ম্যাচের ফল এখন পাল্টে দিতে পারে শেষ চারের পুরো মানচিত্র। যা আইপিএলের এই আসরকে এক রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

কলকাতার জন্য আগামী দিনগুলো মোটেও সহজ নয়। তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ শক্তিশালী আরসিবি এবং গুজরাট টাইটান্স। পাশাপাশি আছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং দিল্লি ক্যাপিটালস। কোনো এক ম্যাচে পা হড়কালেই রাহানে বাহিনীকে লড়তে হবে অন্য দলের জয়-পরাজয়ের কঠিন সমীকরণে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link