লিটনের ব্যাটে কেটে গেল শঙ্কার মেঘ!

মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। দ্বিতীয় সেশনে ভরাডুবির পর যখন শঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হয়েছিল বাংলাদেশের আকাশে, তখনই রোদের আলো হয়ে এলেন লিটন কুমার দাস।

মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। দ্বিতীয় সেশনে ভরাডুবির পর যখন শঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হয়েছিল বাংলাদেশের আকাশে, তখনই রোদের আলো হয়ে এলেন লিটন কুমার দাস। দিনশেষে বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখলেন ম্যাচে।

সিলেট টেস্টে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের সামনে পাকিস্তানের লড়াইটা ঘুরে দাঁড়ানোর। সেই প্রত্যয় নিয়ে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় সফরকারীরা। সিদ্ধান্তটা যে ভুল ছিল না, তার প্রমাণ পাওয়া গেল শুরুতেই। মাহমুদুল হাসান জয় খালি হাতে ফেরার পর অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম কিংবা মুমিনুল হকরাও ইনিংস বড় করতে পারেননি।

মধ্যাহ্নভোজে যাওয়ার আগে অবশ্য কিছুটা ধাক্কা সামলে নিতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে বিপত্তির শুরু বিরতির পর থেকে। ১০৬ থেকে ১১৬, এর মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে একেবারে কোনঠাসা তখন বাংলাদেশ। ১১৭-তেই নেই ছয় উইকেট, ১৫০ রান পার করা তখন অলীক স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেখান থেকে এক নতুন গল্পের শুরু। যার নায়ক লিটন দাস। তাইজুল ইসলামকে সাথে নিয়ে এক অজানা পথে বেরিয়ে পড়লেন, কী হবে, কী হবে না, এসব চিন্তা ঝেড়ে মোকাবিলা করতে লাগলেন পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের। এই জুটি থেকে বাংলাদেশ পায় ৬০ রান। এরপর তাসকিন আহমেদের সাথে ৩৮ আর শরিফুল ইসলামের সাথে ৬৪ রানের জুটি গড়েন লিটন।

ক্যারিয়ারের ছয় নম্বর শতকটা তুলে নেন তিনি। দল যখন ঘোরতর বিপদে, তখনই পাওয়া যায় তাঁকে। আরও একবার প্রমাণ করেন ১২৬ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে। টেল-এন্ডার ব্যাটারদের সঙ্গে করে দাঁতে দাঁত চেপে যে লড়াইটা করেছেন, সেটার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা দুঃসাধ্য। লিটনের হাত ধরে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে তোলে ২৭৮ রান।

দিনের শেষ লগ্নে এসে ব্যাট হাতে নামতে হয় পাকিস্তানকে। তবে বিপর্যয় ঘটেনি তাদেরও। কোনো উইকেট না হারিয়ে দিন শেষ করে ২১ রানে।

Share via
Copy link