লড়াইয়ের প্রতিশব্দ তেভেজ!

আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কম রাজুপুত্রের আগমণ ঘটেনি, কিন্তু তেভেজ ছিলেন সকলের মাঝে অনন্য।

বুয়েনস আইরেসের কুখ্যাত ‘ফুয়ের্তে আপাচে’ বস্তির রক্তাক্ত গলি থেকে উঠে আসা মানুষটি ফুটবলকে বানিয়েছিলেন বেঁচে থাকার একমাত্র হাতিয়ার। যেখানে শৈশবেই ঝরে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে তিনি হয়ে উঠলেন এক জ্বলন্ত ফিনিক্স পাখি। ফুটবল ইতিহাসে কার্লোস তেভেজ এমন এক অবিসংবাদিত যোদ্ধা, যার বুটের তলায় পিষ্ট হয়েছে দারিদ্র্যের নির্মমতা।

তেভেজের ফুটবলকে বিলাসী শিল্পের আখ্যা দেওয়া যায় না কোনো অর্থেই, বরং, তা ছিল তীব্র এক লড়াই। মাত্র ১০ মাস বয়সে ফুটন্ত পানির আঘাতে পুড়ে যাওয়া শরীরের ক্ষতচিহ্ন তিনি কখনো প্লাস্টিক সার্জারি করে মুছে ফেলতে চাননি। কারণ, ওই ক্ষতটাই তেভেজকে মনে করিয়ে দিত তিনি কোথা থেকে এসেছেন।

তেভেজের বলে পায়ের প্রতিটা স্পর্শ, প্রতিটা ট্যাকল আর প্রতিটা শটে মিশে থাকত বেঁচে থাকার এক আদিম তাড়না। বোকা জুনিয়র্স থেকে শুরু করে ম্যানচেস্টারের দুই ক্লাবের পথে ধরে ইতালির জুভেন্টাস, আর চিরকাল ধরে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসা ব্রাজিলের করিন্থিয়াস—যেখানেই পা রেখেছেন, নিজের রক্ত জল করে জয় করেছেন কোটি ভক্তের হৃদয়। 

আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কম রাজুপুত্রের আগমণ ঘটেনি, কিন্তু তেভেজ ছিলেন সকলের মাঝে অনন্য। ‘এল আপাচে’ বা ‘জনতার খেলোয়াড়’ নামি প্রমাণ করে দেয় লাতিন আমেরিকার দেশটির মানুষদের কাছে তিনি কেমন ছিলেন।

লিওনেল মেসি যখন তাঁর ঈশ্বরপ্রদত্ত জাদুতে মোহিত করছেন পুরো বিশ্বকে, তেভেজ তখন বুয়েনস আইরেসের মেহনতি মানুষের প্রতিনিধি হয়ে মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন। আর্জেন্টিনার মানুষ তাঁর মাঝে যেন নিজেদের সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেত।

তিনি যখন আলবিসেলেস্তেদের জার্সি গায়ে মাঠে দৌড়াতেন, মনে হতো পুরো আর্জেন্টিনার কোটি মানুষের আবেগ আর সংগ্রাম তাঁর কাঁধে ভর করেছে। তেভেজের ফুটবলকে খ্যাতি কিংবা শিরোপার জন্য খেলা বলা যায় না, তিনি বরং খেলে গেছেন দেশের মানুষের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর জন্য।

আর্জেন্টিনার আকাশি আর সাদা রঙের জার্সি গায়ে তেভেজ সবসময় ছিলেন এক নির্ভীক সেনাপতি। বড় বড় ডিফেন্ডাররা তাঁর দুই পায়ের প্রতিভার কাছে পরাস্ত হতো। তাঁর পায়ের জাদু আর অদম্য জেদ আর্জেন্টাইন ফুটবলকে এক অদ্ভুত অহংকার দিয়েছিল।

তেভেজ কোনোদিন হার মানতে শেখেননি। প্রতিকূলতা যত বড় হয়েছে, তাঁর ভেতরের যোদ্ধা তত বেশি গর্জে উঠেছে। ফুটবল মাঠে তিনি যে খুব বেশি করেছেন তা কিন্তু নয়, তবে দেখিয়েছেন কীভাবে জীবনের সব অন্ধকারকে পায়ে দলে আলোর মিছিলে শামিল হওয়া যায়।

তেভেজ শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম জীবন নামক লড়াইয়ের ময়দানে। ফুটবল মাঠে তাঁর সেই চিরচেনা আগ্রাসী দৌড় আর গোলের পর চওড়া হাসি আজীবন কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে দোলা দিয়ে যাবে। কার্লোস তেভেজ আপনি শুধু ফুটবলের নায়ক নন,আপনি জীবনের এক অপরাজিত রূপকার।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link