ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মঞ্চে এবার শ্রীলঙ্কায় উড়বে লাল-সবুজের বিজয় নিশান। কোনো নিলামের অনিশ্চয়তা ছাড়াই, সরাসরি চুক্তির রাজকীয় মর্যাদায় লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) নিজেদের জায়গা সুরক্ষিত করে নিয়েছেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেট তারকা—সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ এবং লিটন কুমার দাস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ময়দান ছেড়ে এবার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট মাতাবেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা।
নিলামের টেবিলে হাতুড়ির ঠোকাঠুকির আগেই এই তিন ক্রিকেটারের দল পেয়ে যাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি দুনিয়ায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ব্র্যান্ড ভ্যালুরই প্রমাণ। লঙ্কান দ্বীপের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এবার দল গোছানোর শুরুতেই ভরসা রেখেছে ঢাকার অভিজ্ঞ ও ক্ষুরধার পারফর্মারদের ওপর। এই সরাসরি চুক্তি যেমন ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনই বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের ক্রিকেটীয় মর্যাদাকে নিয়ে যাবে এক অনন্য উচ্চতায়।
লঙ্কান লিগের অন্যতম সফল ও শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি জাফনা কিংস এবার তাদের ডেরায় টেনে নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুই বড় স্তম্ভকে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের অভিজ্ঞতার সাথে জাফনার জার্সিতে এবার গতির ঝড় তুলবেন স্পিডস্টার তাসকিন আহমেদ। একই দলে এই দুই মহাতারকার অন্তর্ভুক্তি জাফনাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিটে পরিণত করেছে।

অন্যদিকে, ক্ল্যাসিক ব্যাটিং আর উইকেটের পেছনের চপলতায় শ্রীলঙ্কার আকাশ রাঙাতে প্রস্তুত লিটন দাস। গল গ্যালান্টসের ড্রেসিংরুমে লিটনের অন্তর্ভুক্তি দলটির ব্যাটিং লাইনআপকে দেবে এক বাড়তি নান্দনিকতা ও নির্ভরতা। সাকিবের সাবেক দল গলের হয়ে এবার লিটন যখন ব্যাট হাতে নান্দনিক শটের ফুলঝুরি ফোটাবেন, তখন গ্যালারির মুগ্ধতা ছুঁয়ে যাবে বাইশ গজকে।
সবুজ ক্যানভাসের এই উৎসবে যখন মেতে উঠবেন সাকিব-তাসকিনরা, তখন দ্য হান্ড্রেডের গতিময় মঞ্চে ইংল্যান্ড মাতাবেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। আর টানা ক্রিকেটের ক্লান্তি মুছে নিজেকে নতুন করে ফিরে পেতে এই লঙ্কান বিরতিতে বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। সামনে এলপিএলের মূল নিলাম, যেখানে আরও অনেক বাংলাদেশির দল পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার সাগরতীরের স্টেডিয়ামে ব্যাটে বলে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা যখন নিজেদের প্রতিভার প্রকাশ ঘটাবেন তখন যেকোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীর বুক গর্বে ভরে উঠবে। বিশ্বজোড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ভিড়ে এবার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় সাকিব-লিটনদের রাজত্বের গল্প লেখার পালা। এখন শুধু অপেক্ষা মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশি বীরদের ব্যাটে-বলে গর্জে ওঠার।











