২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যার গতি আর বলের সুইংয়ে বুঁদ হয়েছিল দেশের ক্রিকেটপ্রেমী সমাজ, সেই কাজী অনিকের গল্পটা আজ বড়ই করুণ। সম্ভাবনার এক আকাশ নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও, ভুল আর নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ এক বুক আক্ষেপ বুকে চেপে ক্রিকেটের ছেড়েছেন তিনি। এখন এক অভিজাত শপিং মলে একটি পোশাকের শোরুমে জীবনযুদ্ধের লড়াই চালাচ্ছেন এই তরুণ।
২০১৮ এর সেই রঙিন উৎসবের ঠিক পরের বছরই অনিকের ক্যারিয়ারে নেমে আসে এক ঘোর অমাবস্যা। ২০১৯ সালের জাতীয় ক্রিকেট লিগের একটি ম্যাচে ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসায় দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন তিনি। মাত্র ২০ বছর বয়সে পাওয়া এই বড় ধাক্কা তাঁর সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের গতিপথকে চিরতরে থমকে দেয়।
নিষেধাজ্ঞার সেই দীর্ঘ ও অন্ধকার প্রহর কাটিয়ে যখন তিনি আবারও চেনা ২২ গজে ফিরলেন, তখন চারপাশের চেনা দুনিয়াটা অনেকটাই বদলে গেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের দলগুলোতে আর আগের মতো নিয়মিত সুযোগ মিলছিল না তাঁর। ফলে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়ানোর যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা ধীরে ধীরে কুয়াশায় মিলিয়ে যেতে থাকে।

একটা সময় যাকে ভাবা হতো দেশের পেস আক্রমণের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি, সেই তরুণ তারকা আজ তীব্র আর্থিক অভাব আর সুযোগের শূন্যতার কাছে হার মেনেছেন। পেস বোলিংয়ের ঝড় তুলে যেখানে ব্যাটারদের স্টাম্প ওড়ানোর কথা ছিল, সেখানে মাত্র ২৭ বছর বয়সে একরাশ হতাশা নিয়ে অবসরের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি।
ক্রিকেটের মাঠ থেকে ছিটকে গিয়ে জীবনধারণের তাগিদে অনিক এখন কাজ করছেন একটি কাপড়ের শোরুমের সেলসপার্সন হিসেবে। হাত উঁচিয়ে যেখানে উইকেটের উল্লাস করার কথা, সেই হাত দিয়ে আজ ক্রেতাদের কাছে কাপড় তুলে দিচ্ছেন তিনি। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার এই লড়াই বড্ড বেশি নিষ্ঠুর, বড্ড বেশি বাস্তব।
এরই মাঝে শেষ চেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন অনিক। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ভাগ্য আর প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আজ মাঠের বাইরে নিভৃতে জ্বলছে।

এক সময়ের সম্ভাবনাময় এই ক্রিকেটারের গল্প যখন শুনবেন তখন যেকোনো দর্শক স্তব্ধ হতে বাধ্য। তবে অনিক এখনো পুরোপুরি আশা হারাননি; বোর্ড থেকে যদি ন্যূনতম আর্থিক নিশ্চয়তা ও সুযোগ দেওয়া হয়, তবে আবারও বল হাতে ক্রিকেটের মাঠে ফিরতে প্রস্তুত এই লড়াকু সৈনিক।










