মরক্কোকে ‘ডার্ক হর্স’ বলার দিন এবার হয়তো ফুরিয়ে এসেছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে স্পেন আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ওঠা দলটি এখন আর কোনো আন্ডারডগ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চের এক পরিপূর্ণ পরাশক্তি। উত্তর আমেরিকার মাটিতে এবার তারা আসছে নিজেদের সক্ষমতা আবার সকলের সামনে তুলে ধরে বিশ্বমঞ্চে লড়াই করতে।
মরক্কোর এই দলটির আসল শক্তি তাদের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ আর নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল স্ট্রাকচারের মধ্যে গেঁথে আছে। কোচিং ডাগআউটে বদল এলেও, এই দলের খেলোয়াড়দের মনের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি, বরং, সবুজ ঘাসে তারা প্রতিদিন পা রাখে বুকে জয়ের ক্ষুধা নিয়ে।
ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে মাঠ কাঁপানো আশরাফ হাকিমি কিংবা ব্রাহিম দিয়াজের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের পাশাপাশি এই দলে আছে একঝাঁক দুর্দান্ত তরুণ তুর্কি। অভিজ্ঞতার চাদরে মোড়ানো আর তারুণ্যের উদ্যমে ভরা এই মরক্কো দলটিকে পরাস্ত করা যেকোনো কোচের জন্যই এখন এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

অবশ্য, অ্যাটলাস লায়ন্সদের জন্য এবারের মিশনটা মোটেও সহজ হবে না। গ্রুপ সি-এর প্রথম ম্যাচেই তাদের মুখোমুখি হতে হবে হেক্সার অপেক্ষায় থাকা ব্রাজিলের। হাইতি কিংবা স্কটল্যান্ডের মতো তুলনামূলক কম শক্তির দল নয়, বরং, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সেলেসাওদের রুখে দিয়ে নিজেদের শক্তির নতুন বার্তা দিতে চায় তারা।
কাতার বিশ্বকাপের সেই রূপকথা যে কোনো ভাগ্যের জোর ছিল না, মরক্কোর জন্য তা প্রমাণ করার শ্রেষ্ঠ সময় এবারের বিশ্বকাপ। ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ফুটবলের বিপক্ষে এক ইঞ্চিও ছাড় না দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত হাকিমি-ডিয়াজরা। এই একটি ম্যাচই ঠিক করে দেবে সোনালী শিরোপার লড়াইয়ে তারা কতদূর যেতে চলেছে।
মরক্কো এখন আর স্রেফ স্বপ্ন দেখা কোনো দল নয়, তারা এখন মাঠে ফলাফল এনে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে৷ ফুটবলের দীর্ঘ ঐতিহ্য কিংবা ট্রফি ক্যাবিনেটের শিরোপার ঝলকানি নিয়ে আসা বড় নামের দলের বিপক্ষে ত্রাস সৃষ্টি করতে পারে এই মরক্কোর মতো দল।











