ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে যখন মরক্কো একসাথে দুইজনকে বদলি করল, তখন মাঠে থাকা একাদশটাকে ‘ভিনদেশি’ বলাই যায়। কারণ মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা মরক্কোর ১১ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকেই জন্মেছিলেন দেশের বাইরে। এমন এক বৈশ্বিক দল, যেখানে শেকড় এক হলেও জন্মভূমি ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে।
গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো জন্মেছিলেন কানাডার মন্ট্রিয়ালে। ডিফেন্সে নুসাইর মাজরাউইয়ের জন্ম নেদারল্যান্ডসের লেইডারডর্পে। ইসা দিয়ুপের জন্ম ফ্রান্সের তুলুজে, আর স্পেনের পালমায় জন্ম সাদি রিয়াদের। স্পেনেরই মাদ্রিদে জন্মেছিলেন দলের তারকা আশরাফ হাকিমি, যিনি আজ মরক্কোর রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা।
মিডফিল্ডে এই বৈচিত্র্য আরও বিস্তৃত। নেইল এল আয়নাউই জন্মেছেন ফ্রান্সের ন্যান্সিতে। আয়্যুব বোউয়াদ্দি এসেছেন সেনলি থেকে। সেমসদিন তালবির জন্ম বেলজিয়ামের সামব্রেভিলে, আর বিলাল এল খাননুসের জন্ম মোলেনবেক-সাঁ-জ্যাঁতে। সামির এল মুরাবেতও ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে জন্ম নেওয়া ফুটবলার। আর ইসমাইল সাইবারির জন্ম স্পেনের তেরাসায়।

এই তালিকা দেখলেই বোঝা যায়, মরক্কোর জাতীয় দল আসলে এক ধরনের বিশ্ব-মানচিত্র। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার নানা শহরে জন্ম নেওয়া ফুটবলাররা একত্র হয়েছেন এক দেশের পতাকাতলে।
ব্রাহিম দিয়াজ বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন, তাঁর জন্ম স্পেনের মালাগায়। তবে, দলের ভেতরে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন আজেদ্দিন ওউনাহি। তিনি মরক্কোর মাটিতেই জন্ম নেওয়া একমাত্র খেলোয়াড়দের একজন। ম্যাচে তিনিও ছিলেন শুরু থেকে, পরে মাঠ ছাড়েন সামির এল মুরাবেতের জায়গা দিতে।
এই পুরো দৃশ্যটা যেন এক নতুন বাস্তবতার ছবি আঁকে। আধুনিক ফুটবলে পরিচয় শুধু জন্মস্থানে সীমাবদ্ধ নয়। শেকড়, পরিবার আর স্বপ্ন মিলেই তৈরি হয় এক জাতীয় দল। মরক্কোর এই একাদশ তাই শুধু একটি ফুটবল দল নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এক প্রজন্মের মিলিত গল্প।











