মাত্র পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মানুষের দেশ কেপ ভার্দে। আর বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। পার্থক্যটা প্রায় আকাশ-পাতাল। কিন্তু ফুটবলের মাঠে গল্পটা ঠিক উল্টো। যে দেশটির নামও কিছুদিন আগে হয়তো অনেক মানুষ জানতোই না, সেই ক্যাপে ভার্দে এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে। স্পেনের মতো ফুটবলীয় পরাশক্তিদের বিপক্ষে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
অথচ ২০০০ সালে ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৯, কেপ ভার্দে ছিল ১৮২ নম্বরে। দুই যুগের ব্যবধানে ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটি উঠে গেছে বিশ্ব ফুটবলের আলোচনায়, আর বাংলাদেশ এখনো আটকে আছে সম্ভাবনা আর বাস্তবতার মাঝখানে।
কেপ ভার্দের উত্থানের সবচেয়ে বড় কারণ – তারা নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝে পরিকল্পনা করেছে। দেশের ভেতরের খেলোয়াড় সংখ্যা কম হওয়ায় তারা ইউরোপ ও আমেরিকায় থাকা প্রবাসী ফুটবলারদের খুঁজে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। রায়ান মেন্ডেসদের মতো খেলোয়াড়রা স্থানীয় প্রতিভার সঙ্গে মিলে তৈরি করেছে শক্তিশালী এক দল।

অথচ বাংলাদেশের হাতে ছিল আরও বিস্তৃত সুবিধা। বিশাল জনসংখ্যা, ফুটবলের ঐতিহ্য এবং মানুষের ব্যাপক আগ্রহ। কিন্তু এই শক্তিকে ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া যায়নি।
বিনিয়োগের দিকে তাকালে তুলনাটা আরও স্পষ্ট হয়। বাফুফের ৬১ কোটি টাকার বেশি বার্ষিক বাজেটের বড় একটা অংশ ব্যয় করা হয় ঘরোয়া লিগ আর বিদেশ সফরের যাতায়াত খরচেই। কিন্তু তৃণমূল ফুটবল, বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক একাডেমি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি এখনো বড় বাধা।
অন্যদিকে ক্যাপে ভার্দে সীমিত অর্থকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ব্যবহার করেছে। ফিফা থেকেও পাওয়া ৫.৭ মিলিয়ন ডলারের অধিকাংশই তারা মাঠ উন্নয়ন, প্রতিভা খোঁজা এবং জাতীয় দলের কাঠামো শক্তিশালী করাতে বিনিয়োগ করেছে।

কেপ ভার্দের এই উত্তরণ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, ফুটবলের সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর সুফল। যেখানে আধুনিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অটল বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত সাফল্যের পথ মসৃণ করে।











