বয়স মাত্র ১৯, এমন দিনেই ফুটবল মাঠে নেমে বল পায়ে তিনি গতির ঝড় তোলেন, বারবার ছিন্নভিন্ন করে দেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে। কিন্তু, আইভরি কোস্টের নতুন তারকা ইয়ান দিওমান্দের প্রতিটা মুহূর্তের পেছনে যে বুকে চেপে রাখা কষ্ট আছে তা জানা নেই অধিকাংশের। এই ফুটবল তাঁর কাছে কোনো সাধারণ খেলা নয়, বরং অকালপ্রয়াত প্রিয় বোন রক্সানকে দেওয়া এক নীরব প্রতিশ্রুতির নাম।
এক বছর আগে মাত্র ১৫ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক অপরাধের শিকার হয়ে দুনিয়া ছেড়ে চলে যায় তাঁর একমাত্র বোন। যে বোন স্বপ্ন দেখতো তাঁর ভাই বড় ফুটবলার হবে। ছোট মেয়েটির পানীয়ের মধ্যে অজানা কিছু মেশানোর কারণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে দিওমান্দে জানান। বোনের সেই আকস্মিক চলে যাওয়া ১৯ বছর বয়সী এই তরুণকে খুব বড়ভাবে আঘাত করে। তারপর থেকেই মাঠের প্রতিটি গোল থেকে শুরু করে প্রতিটি জয়, সবকিছুই তিনি উৎসর্গ করছেন ওপারে থাকা বোনের উদ্দেশ্যে।
আফ্রিকার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা দিওমান্দে আজ আইভরি কোস্টের কোটি মানুষের আশার প্রদীপ। গতি আর ড্রিবলিংয়ের এক নান্দনিক মেলবন্ধনে তিনি ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন লিভারপুল আর প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর। বুন্দেসলিগায় আরবি লাইপজিগের হয়ে অভিষেক মৌসুমেই ১২ গোল আর নয়টি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন এই প্রতিভাবান।

এবারের বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের বিপক্ষে দলের জয়ে সবচেয়ে বেশি সফল ড্রিবলিং করে মুগ্ধ অরেছিলেন দর্শকদের। গতিময় ফুটবল আর ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার এক সহজাত ক্ষমতা রয়েছে দিওমান্দের খেলায়। সতীর্থরা তাঁকে ভালোবেসে ডাকেন ‘গোল্ডেন বয়’, আর ভক্তরা তাঁর মাঝে দেখছেন কিংবদন্তি দিদিয়ের দ্রগবার ছায়া।
আইভরি কোস্ট যতদূর যেতে পারে, তাঁর প্রতিটা ম্যাচেই আফ্রিকার লক্ষ-কোটি চোখ আটকে থাকবে উইংয়ে ঝড় তোলা এই তরুণের ওপর। তবে দিওমান্দের লক্ষ্য কেবল প্রতিপক্ষের জাল কাঁপানো বা ম্যাচ জেতা নয়। তিনি চান দুই পায়ের জাদুতে পুরো বিশ্ব যেন বারবার তাঁর বোনের নাম উচ্চারণ করে, বোনকে দেওয়া স্বপ্নগুলো যেন পূর্ণতা পায়।
প্রতিটি ফুটবল বিশ্বকাপই দর্শকদের সামনে হাজির করে নতুন নতুন প্রতিভাবানদেরকে। এবারে বিশ্বকাপে ইয়ান দিওমান্দে তেমনই একজন। বড় স্বপ্ন বুকে নিয়ে আসা এই আফ্রিকান তরুণ নিজের দলের সাথে কতদূর যেতে পারেন, সেইদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে ফুটবল বিশ্ব।











