আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীতার কথা তো আমরা সবাই জানি। কিংবা বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের ‘এল ক্লাসিকো’-এর উত্তাপ তো আমাদের রক্তে মিশে আছে। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন বার্সেলোনা বনাম ব্রাজিল জাতীয় দল – এমন কিছু? হ্যাঁ, ১৯৯৯ সালে ঠিক এমনই এক অবিশ্বাস্য লড়াই দেখেছিল ফুটবল বিশ্ব।
বার্সেলোনার শতবর্ষের উৎসবে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিল সাম্বা জাদুর কারিগররা। একদিকে লুইস এনরিকে, ফিগো আর গার্দিওলাদের নিয়ে সাজানো বার্সা। অন্যদিকে রোনালদো, রিভালদো আর রবার্তো কার্লোসদের মতো তারকাদের নিয়ে খোদ ব্রাজিল। প্রীতি ম্যাচ নাম হলেও মাঠের ভেতর সেদিন কোনো ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না কেউই।
ম্যাচের শুরুতেই রোনালদো তাঁর স্বভাবসুলভ ক্ষিপ্রতায় গোল করে ব্রাজিলকে লিড এনে দিলেন। পাল্টা জবাব দিতে অবশ্য খুব একটা সময় নেয়নি বার্সেলোনাও। লুইস এনরিকের এক দারুণ ভলিতে স্কোরলাইনে সমতা ফেরায় স্প্যানিশ এই পরাশক্তি।

তবে খেলার আসল চমকটা আসে দ্বিতীয়ার্ধে। বার্সার হয়ে খেলা রিভালদো যখন বক্সের বাইরে থেকে নিজের বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক শটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দিলেন, তখন ফুটবল বিশ্ব যেন এক রোমাঞ্চকর মুহূর্তের সাক্ষী হলো। নিজের দলের বিপক্ষেই রিভালদোর গোল। ফুটবল প্রেমীদের জন্য এর চেয়ে বড় নাটকীয় ঘটনা আর কী হতে পারে!
ম্যাচটি তখন শেষ হওয়ার পথে, জয়ের দোরগোড়ায় ব্রাজিল।ঠিক তখনই গোলরক্ষক রোজারিও চেনির এক মুহূর্তের ভুল থেকে বার্সাকে সমতায় ফেরান ফিলিপ কোকু। ২-২ গোলের সেই ড্র ম্যাচে ফলাফল বড় ছিল না, বড় ছিল মাঠের দুই প্রান্তের কিংবদন্তিদের সেই ফুটবল যুদ্ধ।
ম্যাচ শেষে রোনালদো আর ফিগোর জার্সি অদলবদল দেখে মনে হচ্ছিল, এ যেন কেবল দুই দলের লড়াই নয়, বরং এক যুগের সেরা ফুটবলারদের নিজেদের মধ্যে শ্রদ্ধার এক দারুণ বিনিময়। আজ আধুনিক ফুটবলের যান্ত্রিক ভিড়ে এমন ক্লাসিক লড়াইগুলো রূপকথার মতোই কেবল স্মৃতিতে বেঁচে আছে।












