রোনালদোর পুনরুত্থানে পর্তুগালের বড় জয়!

প্রথমার্ধে দুই গোলেও থেমে যাওয়া যেত। কিন্তু, পর্তুগাল থামলো না। থেমে যেতে চাইলেন না রোনালদো। এ যেন নিজের পরিচয় আরও দৃঢ় করার এক সুযোগ।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গোল করতে পারেন না, একতাবদ্ধ হয়ে খেলতে পারে না পর্তুগাল; এমন শত কথাই তো শোনা যাচ্ছিল ম্যাচ শুরুর আগে। কিন্তু, সব চিত্র পাল্টে গেল মাঠে। রোনালদো জানান দিলেন তিনি হারিয়ে যাননি, গৃহযুদ্ধের সব স্ফুলিঙ্গ অঙ্গারেই নিভিয়ে দিল পর্তুগাল। উজবেকিস্তান বিধ্বস্ত হলো পাঁচ গোল হজম করে। 

রোনালদো ফুরিয়ে গেছেন বলে ধ্বনি উঠলেও তিনি যে হারিয়ে যাননি তার প্রমাণ দিলেন এই ম্যাচে। মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই উজবেকিস্তানের জালে আঘাত হানেন এই পর্তুগিজ তারকা। বাতাসে যত সমালোচনার ঝড় উঠেছিল তা যেন পায়ের এক স্পর্শেই থামিয়ে দিলেন। 

একটু পরেই আবার আক্রমণ। ডি-বক্সের লাগোয়া জায়গায় ফাউল হওয়ায় ১৭ মিনিটে পর্তুগাল ফ্রি কিক পায়। সুযোগটা এবারও রোনালদোর ছিল। কিন্তু, প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্ডেজ। দিশেহারা উজবেকিস্তান হাইড্রেশন ব্রেকের পর জালে বল জড়ালেও তা কাটা পড়ে অফসাইডে। 

প্রথমার্ধে দুই গোলেও থেমে যাওয়া যেত। কিন্তু, পর্তুগাল থামলো না। থেমে যেতে চাইলেন না রোনালদো। এ যেন নিজের পরিচয় আরও দৃঢ় করার এক সুযোগ। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে অনবদ্য ফিনিশিংয়ে ৩৭ মিনিটে স্কোরলাইন নিয়ে গেলেন ৩-০তে। 

প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানকে অনেকটা হাতের মুঠোয় আটকে রাখা পর্তুগাল দ্বিতীয়ার্ধেই খেলে গিয়েছে একই স্টাইলে। গোল শোধ করা তো দূরে থাক, এশিয়ার দেশটি বরং বিপদ আরও ডেকে এনেছে নিজেরাই। ৬০ মিনিটে গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভ আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান ৪-০ তে নিয়ে যান।

রোনালদো বেশ কিছু সুযোগ পেলেও হ্যাটট্রিকে আর রূপান্তর করতে পারেননি। তবে, পর্তুগালের তাতে কোনো আফসোস থাকার কথা নয়। বদলি হিসেবে নামা রাফায়েল লিও ৮৭ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে দ্রুতগতির শটে শেষ পেরেক ঠুকেন উজবেকিস্তানের ঘাড়ে।

ম্যাচের আগে পর্তুগালকে নিয়ে যত শঙ্কা ছিল, সবকিছুই যেন পালটে গেল ৯০ মিনিটের খেলায়। প্রতিপক্ষকে কোনো প্রকারের সুযোগ না দিয়েই তারা পেল বিশাল জয়। জানান দিল, কেন তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link