নতুন ফরম্যাটের বিশ্বকাপে রোমাঞ্চকে গিলে ফেলছে রূপকথা?

চির চেনা নিয়মের বদলে নতুন ফরম্যাটে ছড়াচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনা। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এই আসরে নতুন নতুন মুখ আর গল্পের সম্মেলন ঘটছে এবার।এরপরও শেষ পর্যন্ত ফিফার পরীক্ষামূলক এই আয়োজন সত্যিই সফল হবে কি-না সেই প্রশ্ন রাখছেন কেউ কেউ।

চির চেনা নিয়মের বদলে নতুন ফরম্যাটে ছড়াচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনা। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এই আসরে নতুন নতুন মুখ আর গল্পের সম্মেলন ঘটছে এবার।এরপরও শেষ পর্যন্ত ফিফার পরীক্ষামূলক এই আয়োজন সত্যিই সফল হবে কি-না সেই প্রশ্ন রাখছেন কেউ কেউ।

ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে উত্তরটা একরৈখিক হবার সুযোগ নেই। কেননা একদিকে বিশ্ব কেপ ভার্দের মতো অবিশ্বাস্য রূপকথার দেখা পেলেও গতানুগতিক গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চের স্বাদ আস্বাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বেশ।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বিলবোর্ড হয়ে উঠেছে কেপ ভার্দে। আটলান্টিক মহাসাগরের খুদে দ্বীপরাষ্ট্রটি দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে হটিয়ে জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। ২০১০-এর চ্যাম্পিয়ন স্পেন, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করে মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়েই গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে হয়ে ইতিহাস গড়েছে তারা।

কেপ ভার্দের এই যাত্রার মূল আলোকবর্তিকা ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেন ম্যাচের আগে ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী মাত্র ৫০ হাজার থাকলেও চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সে কয়েক দিনের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৭ লাখে।

শুধু কেপ ভার্দেই নয়, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, কানাডা, আইভরি কোস্ট ও দক্ষিণ আফ্রিকাও প্রথমবারের মতো নকআউটে উঠেছে এবার। আফ্রিকার ১০ দলের মধ্যে ৯টিই শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়ে প্রমাণ করেছে, সম্প্রসারিত বিশ্বকাপ নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।

তবে ভিন্ন চিত্রও আছে। এশিয়ার নয়টি দল মিলে জিতেছে মাত্র তিন ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়া ও জাপান ছাড়া কেউ টপকাতে পারেনি প্রথম রাউন্ডের বাধা। কনকাকাফ অঞ্চলেও তিন স্বাগতিকের বাইরের দলগুলোকে খুঁজে পাওয়া যায়নি কোথাও।

তাই প্রশ্ন আসছে সমস্যার শেকড় কি ফরম্যাটেই? কারণ ১২ গ্রুপ থেকে তৃতীয় হওয়া আট দলও নকআউটে ওঠায় বড় দলগুলোর ওপর চাপ তুলনামূলক কম  এবার।

১২টি শীর্ষ বাছাইয়ের মধ্যে কেবল কানাডা ও পর্তুগাল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও চারটি দল শেষ ম্যাচের আগেই গ্রুপ জিতে নেয়। আর পাঁচটি দলের বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়। ফলে শেষ রাউন্ডের অনেক ম্যাচই হয়ে ওঠে স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার।

পাশাপাশি সমান পয়েন্টে গোল ব্যবধানের বদলে মুখোমুখি ফলকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় অনেক দল শেষ ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার প্রেরণা হারিয়েছে। তৃতীয় স্থানের হিসাবও অসম হওয়ায় শেষ ম্যাচডেতে দলগুলো পূর্বের ফল জেনে নিজেদের কৌশল শোধরানোর সুযোগ পেয়েছে।

এসবের বিপরীতে এবারের গ্রুপপর্বে গোল হয়েছে রেকর্ডসংখ্যক, বড় ব্যবধানে জয়ও এসেছে বেশি। কিন্তু ফুটবলীয় রোমাঞ্চ তুলনামূলক কম থাকায় সেটি অনেকটা মূল “টুর্নামেন্টের আগের বাছাইপর্বে” পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক।

তবু নকআউট ফেজ শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের আসল পরীক্ষা। আসল রোমাঞ্চের স্বাদও এখান থেকে পেতে চান ক্রীড়ামোদীরা।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link