হিরো হতে গেলে কী করতে হয়? আড়াই ঘণ্টা গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের জাত চেনালেই যথেষ্ট। অরলান্ডো গিল সেটাই করলেন। পুরো সময় তো বটেই, পেনাল্টি শুটআউটে অভাবনীয় দক্ষতা দেখিয়ে প্যারাগুয়ের নায়ক নয়, মহানায়ক বনে গেলেন। একাই জার্মানির বিদায়পত্রে সিল বসালেন। তাঁর হাত ধরেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল প্যারাগুয়ে।
পুরো ম্যাচেই জার্মানি একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে। সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও অনেকটা তাদের হাতেই ছিল। কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন গিল। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে তিনি করেছেন ৬টি সেভ, যার মধ্যে ৪টিই ছিল বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শট। অর্থাৎ সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তগুলোতেই নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন এই গোলরক্ষক।
শুধু নিয়মিত সময় বা অতিরিক্ত সময়েই নয়, ম্যাচের ভাগ্য যখন গড়াল পেনাল্টি শুটআউটে, তখনও নায়ক ছিলেন গিল। বরং বলা যায়, সেখানেই তিনি লিখেছেন নিজের মহাকাব্য।

শুটআউটে প্রথমেই বলের পেছনে দাঁড়ান জার্মানির অন্যতম ভরসা কাই হাভার্টজ। কিন্তু গিল যেন আগেই পড়ে ফেলেছিলেন প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন হাভার্টজের শট। শুরুতেই মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ে জার্মানি।
এরপর জার্মানির চতুর্থ প্রচেষ্টায় আবারও হাজির হন গিল। দুর্দান্ত এক সেভে জার্মানদের আরও চাপে ফেলে দেন তিনি। সেই মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় প্যারাগুয়ের হাতে।
অবশ্য প্যারাগুয়েও সুযোগ নষ্ট করেছে। তাদের চতুর্থ শট বাইরে চলে যায়, আর পঞ্চম শট রুখে দেন অভিজ্ঞ ম্যানুয়েল নয়ার। ফলে শুটআউট গড়ায় সাডেন ডেথে। উত্তেজনার পারদ তখন চরমে।

কিন্তু সেখানেও বদলায়নি গল্প। জার্মানির ষষ্ঠ শট নিতে আসা ফুটবলারের প্রচেষ্টা উড়ে যায় গোলপোষ্টের ওপর দিয়ে। গিল নামক মানসিক চাপটা আর সহ্য করতে পারেনি জার্মানরা। সেখানেই লেখা হয়ে যায় বিদায়ের গল্পটা।
গোলরক্ষকদের নিয়ে প্রায়ই বলা হয়, একটি ভুল তাদের খলনায়ক বানিয়ে দেয়, আর একটি সেভ তাদের কিংবদন্তি করে তোলে। ডালাসের রাতটি অরলান্ডো গিলের জন্য ছিল ঠিক সেই কিংবদন্তি হয়ে ওঠার মঞ্চ। ফুটবল বিশ্ব তাঁকে মনে রাখবে বহুকাল। তিনি যে প্যারাগুয়ের স্বপ্নযাত্রার সারথি।
Share via:










