ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মস্তিষ্ক ইয়োহান ক্রুইফ একসময় বলেছিলেন, দৌড়ঝাঁপ নয়, বুদ্ধি দিয়েই আসল ফুটবল খেলা হয়। ৩৯ বছর বয়সে এসে সেই কথাটাকেই যেন তালিকা দিয়ে প্রমাণ করে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অন্তত ৯০ মিনিট মাঠে থাকা ৬১৮ জন খেলোয়াড়ের একটা তালিকা করেছে অপটা। সেই তালিকার গোলদাতার শীর্ষে যে নামটা জ্বলজ্বল করছে, একদম তলানিতেও সেই একই নাম — লিওনেল মেসি। ম্যাচ প্রতি গড়ে মাত্র ৮.১ কিলোমিটার দৌড়ে সবচেয়ে কম দৌড়ানোর তালিকায় তিনিই সবার নিচে, অথচ ছয় গোল নিয়ে সেই একই তালিকার একদম চূড়ায়ও তিনিই।
এই অবাক করা চিত্রের শুরু হয়েছিল উদ্বোধনী ম্যাচেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসান মেসি, অথচ মাঠজুড়ে দৌড়ানোর বদলে বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেন প্রতিপক্ষের রক্ষণ পড়তে, ফাঁকা জায়গা খুঁজতে।
এই কার্যকারিতার পেছনে আছে কোচ লিওনেল স্কালোনির নিখুঁত ছক। বল হারালে প্রেসিং সামলান ডি পল, ফার্নান্দেজ, ম্যাক এলিস্টার, সামনে জায়গা তৈরি করেন লাউতারো, আর মেসি অপেক্ষা করেন মোক্ষম আঘাতের জন্য।

আন্দ্রে পিরলো একসময় বলেছিলেন, ফুটবল খেলা হয় মাথা দিয়ে, পা শুধু হাতিয়ার। জাভি হার্নান্দেজও প্রমাণ করেছিলেন শারীরিকতা নয়, বুদ্ধিই ফুটবলের আসল ভাষা। মেসির এই বিশ্বকাপ যেন সেই পুরো ধারারই চূড়ান্ত রূপ — সবচেয়ে কম দৌড়ে, সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলার এক জীবন্ত পাঠ।










