মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের নতুন অধ্যায়

শেষবার যখন ব্যাটটা নামিয়ে রেখেছিলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক নীরব অধ্যায়েরও সমাপ্তি হলো। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের গল্পটা সেখানেই থেমে থাকার ছিল না।

শেষবার যখন ব্যাটটা নামিয়ে রেখেছিলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক নীরব অধ্যায়েরও সমাপ্তি হলো।

কিন্তু মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের গল্পটা সেখানেই থেমে থাকার ছিল না।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের নতুন ব্যাটিং কোচ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সফরে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। এতদিন মাঠে ব্যাট হাতে দলকে পথ দেখিয়েছেন, এবার ড্রেসিংরুমে দাঁড়িয়ে পথ দেখাবেন আগামী দিনের ক্রিকেটারদের।

গত ২২ জুন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেন্টর হিসেবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়োগ দেয়। তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে সেই নতুন পথচলার কয়েক দিনের মধ্যেই আরও বড় দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো তাঁর কাঁধে। এবার বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সফরে যুক্ত হলেন তিনি।

বাংলাদেশ ‘এ’ দল শুধু একটি দ্বিতীয় সারির দল নয়; জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়া ক্রিকেটারদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির মঞ্চ। এখান থেকেই উঠে এসেছেন বাংলাদেশের অনেক তারকা ক্রিকেটার। সেই দলের ব্যাটিং বিভাগ এখন সমৃদ্ধ হবে এমন একজনের অভিজ্ঞতায়, যিনি প্রায় দুই দশক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপ, ব্যর্থতা, প্রত্যাবর্তন আর সাফল্যের প্রতিটি রূপ খুব কাছ থেকে দেখেছেন।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কখনো সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা ক্রিকেটার ছিলেন না। কিন্তু যখনই দল কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে, তখনই নীরবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান, ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ইনিংস, অসংখ্য ম্যাচে ফিনিশারের ভূমিকায় দলের ভরসা—তাঁর ক্যারিয়ারের গল্পগুলো আজও বাংলাদেশের ক্রিকেটের গর্বের অংশ।

একসময় তিনি নিজে রান করে জিতিয়েছেন বাংলাদেশকে।

এবার তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে, তাঁর গড়া কোনো তরুণ ব্যাটার একদিন বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচ জেতাবে।

ব্যাটটা তিনি নামিয়ে রেখেছেন, কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি তাঁর দায়িত্ব শেষ হয়নি।

বরং শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়।

 

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link