এবারের বিশ্বকাপে কি যুক্তরাষ্ট্র সফল?

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশ্বকাপটা ছিল প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ। ২০১৪ সালের পর আবারও তারা পৌঁছায় শেষ ষোলোতে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলটি নিজেদের ইতিহাসে এক আসরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতে সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখায়।

বিশ্বকাপ শুধু জয়ের নয়, কখনো কখনো অপূর্ণতারও গল্প হয়ে ওঠে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে যুক্তরাষ্ট্র সে রকম এক মিশ্র গল্পই যেন লিখল প্রত্যাশার মিছিল, বিতর্কের চাপ আর উন্মাদনার পারদের নিরিখে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এবারের বিশ্বকাপটা ছিল প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ। ২০১৪ সালের পর আবারও তারা পৌঁছায় শেষ ষোলোতে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলটি নিজেদের ইতিহাসে এক আসরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতে সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখায়। সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে ছিলেন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান।

তবে শেষ ৩২-এ লাল কার্ড দেখে তিনি ছিটকে পড়ার শঙ্কায় ছিলেন। কিন্তু খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ এবং আপিলের ফলে ফিফা বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে ‘বালোগান গেট’ বিতর্কের চাপও সামনে দাঁড়ায় মার্কিনীদের। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মাঠে ফিরলেও ভাগ্য ফেরেনি যুক্তরাষ্ট্রের।

বাস্তবতার কঠিনতম পরীক্ষায় ডালাসে নিজেদের সমর্থকদের সামনে বেলজিয়ামের বিপক্ষে যেন নিজেদের ছায়া হয়ে যায় মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। ম্যাচটিতে ছন্নছাড়া রক্ষণের কারণে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে তারা উন্মোচন করে আত্মঘাতী ভুলের মূল্য।

মার্কিন ফুটবল কিংবদন্তি অ্যালেক্সি লালাসের চোখে এখানেই সবচেয়ে বড় আক্ষেপ। তার ভাষায়, নৈতিক জয়ে সন্তুষ্ট থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই। দল সমর্থকদের বিশ্বাস ফিরিয়ে দেশের মানুষকে ফুটবলের পতাকার নিচে আনলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়েই সবচেয়ে বাজে ফুটবল খেলেছে।

তবু এই বিদায় স্রেফ হতাশার নয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে এখন আর শুধু অংশগ্রহণ নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতাও তাদের আছে। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে বড় দল হয়ে উঠতে হলে সম্ভাবনার গল্পকে ট্রফির লড়াইয়েও রূপ দিতে হবে। তাহলেই সোনালি সাফল্য ধরা দেবে মার্কিন ফুটবলের মুঠোয়।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link