৬০ বছর শিরোপার স্বপ্নে বিভোর, অপেক্ষা ঘুচবে ইংলিশদের?

"শিরোপা ঘরে ফিরবে।" কিন্তু ১৯৬৬ সালের পর সেই স্বপ্ন আর সত্যি হয়নি। তবু ৬০ বছরের অপেক্ষা, অসংখ্য হতাশা আর অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ঠেলে এবার গল্পটা যেন একটু অন্যরকম হয়ে উঠছে থ্রি লায়ন্সদের জন্য।

প্রতিটি বিশ্বকাপেই একই স্বপ্ন ঘিরে থাকে ইংল্যান্ডকে: “শিরোপা ঘরে ফিরবে।” কিন্তু ১৯৬৬ সালের পর সেই স্বপ্ন আর সত্যি হয়নি। তবু ৬০ বছরের অপেক্ষা, অসংখ্য হতাশা আর অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ঠেলে এবার গল্পটা যেন একটু অন্যরকম হয়ে উঠছে থ্রি লায়ন্সদের জন্য।

চলতি বিশ্বকাপে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড শুধু জিতছে না। জয় করে নিচ্ছে দর্শক-সমর্থকদের মনও। ১০ জনের দল নিয়েও শেষ ষোলোয় সহ-আয়োজক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। এরপর কোয়ার্টারে অতিরিক্ত সময়ে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে পরাস্ত করেছে তারা।

যেন চাপের মুহূর্তে ভেঙে পড়তে জানে না এই দল। বরং আরও দৃঢ় হয়ে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে গতি, ড্রিবলিং আর গোলের লড়াইয়ে। টুখেলের ভাষায়, ‘এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু প্রতিভা নয়। বিশ্বাস, একতা আর প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের মানসিকতাই বড়।’

বিশ্লেষকদের চোখে, এই আত্মবিশ্বাসের কেন্দ্রে রয়েছে ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যমাঠ। জুড বেলিংহামের সৃজনশীলতা, অ্যান্ডারসনের কর্মক্ষমতা ও বল নিয়ন্ত্রণ ইংল্যান্ডকে দিয়েছে দারুণ ছন্দ। সামনে অধিনায়ক হ্যারি কেন এখনও নির্ভরযোগ্য গোলমেশিনের ভূমিকায় আছেন। আর গোলবারে জর্ডান পিকফোর্ড যেন নিরাপত্তার শেষ দেয়াল হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রক্ষণে।

এবার সামনে আরও বড় পরীক্ষা। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দুই দলের পাঁচ বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ-এ ইংলিশদের জয় তিনটি, আর্জেন্টিনার একটি, আর বাকি ম্যাচটি ড্র। পরিসংখ্যানও তাই কিছুটা সাহস জোগাচ্ছে থ্রি লায়ন্সদের।

এরপরও টুখেল সন্তুষ্ট নন। তাঁর বিশ্বাস, এই দল এখনও নিজেদের সেরাটা খেলেনি। গতি বাড়াতে হবে। করা যাবে না সহজ ভুল। এটি করতে পারলেই ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের শিরোপা খরা ঘুচে দেবেন কেইন-বেলিংহামেরা। সত্যিই তা ঘটবে কি-না, সময়ই বলে দেবে।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link