লাউতারো মার্টিনেজ। বিশ্বকাপে তাঁর নামের পাশে বেশিরভাগ সময় বসে কেবল একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন। সেই প্রশ্ন অবশেষে মুছে গেছে। সুইসদের বিপক্ষে অন্তিম সময়ের গোলে তিনিই এখন আর্জেন্টিনার ভরসার প্রতীক।
গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে পাওয়া একটা গোল ছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন আর্জেন্টিনার এই স্ট্রাইকার। বার বার সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু জালের ঠিকানা খুঁজে পাননি। ধীরে ধীরে সমর্থকদের মনে জন্ম নিয়েছে অনিশ্চয়তা, প্রশ্ন উঠেছে তার ফর্ম নিয়ে। এমনকি শেষ দুই ম্যাচে শুরুর একাদশ থেকেও ছিটকে যান তিনি, বেঞ্চে বসে দেখতে হয়েছে দলের লড়াই।

কিন্তু, বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই যেন অন্য এক লাউতারোকে খুঁজে পাওয়া গেছে। আগের এক ম্যাচে বদলি নেমে দারুণ এক অ্যাসিস্ট থেকে দলকে এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ গোল। আর আজ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে থিয়াগো আলমাদার শট ফিরে আসা বল থেকে সরাসরি জালে জড়িয়ে দিলেন নিজের নাম। যে গোল নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল যাত্রা।
ডি মারিয়া নেই, পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই আক্রমণভাগে যেন একটা শূন্যতা টের পাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। এমন সময়ে হুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে লাউতারোর জ্বলে ওঠাটা নিছক কাকতালীয় মনে হয় না। বদলি হয়ে নামা, চাপের মুখে দলকে পথ দেখানো, তারপর নিজে গোল করা, এই ধারাবাহিকতাই যেন বলে দিচ্ছে ছন্দ ফিরে পাওয়ার গল্পটা শুরু হয়ে গেছে।
তাহলে কি এখান থেকেই নতুন করে শুরু হলো লাউতারো মার্টিনেজের বিশ্বকাপ? সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কি এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই শুরুর একাদশে ফিরবেন তিনি?











