ফুটবলীয় পরিপূর্ণতার শেষ সীমানা লিওনেল মেসি ছুঁয়ে ফেলেছিলেন কাতারেই। সবাই ভেবেছিল ২০২২ বিশ্বকাপই হয়তো এই মহাতারকার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখর। কিন্তু ২০২৬-এ এসে ফুটবল বিধাতা যেন নতুন এক মহাকাব্য লিখলেন। যেখানে মেসি খোদ নিজেরই গড়া অবিশ্বাস্য সব রেকর্ড ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছেন ভাস্বর।
পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ বুলালে এমন চিত্রই নজরে আসে। ২০২২ সালের সেই জাদুকরী আসরে সাত ম্যাচে মেসি করেছিলেন সাত গোল আর তিন অ্যাসিস্ট। ফুটবল বোদ্ধারা ধরেই নিয়েছিলেন এখানেই থেমে যাবেন মেসি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদেরকে ভুল প্রমাণিত করলেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। এবারের আসরে সেমিফাইনাল অব্দি সাত ম্যাচে মেসির গোল সংখ্যা আট। গোলে সহায়তাও করেছেন চারটিতে।

তবে মেসিকে কি কেবল শুকনো সংখ্যার নিরিখে বিচার করা সম্ভব? মোটেই না। তার আসল জাদু মাঝমাঠ আর আক্রমণভাগের শৈল্পিক মেলবন্ধন তৈরিতে। ২০২২-এ ২১টি সুযোগ তৈরির বিপরীতে এবার সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ২৬-এ। এমনকি নিখুঁত স্লাইড, বল নিয়ন্ত্রণ আর পাসের মাধ্যমে বড় সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও আগের রেকর্ড ভেঙেছেন মেসি।
তবে এবার সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে তার ড্রিবলিং শৈলীতে। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে ক্ষিপ্রতা কমার বদলে মেসির ড্রিবলিং যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে। ২০২২-এর ১৫টি সফল ড্রিবলিংকে পিছে ফেলে এবার তিনি প্রতিপক্ষ রক্ষণকে বোকা বানিয়েছেন রেকর্ড ২৪ বার।

এ যেন নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার এক অমোঘ আখ্যান। নিজের শ্রেষ্ঠত্বের বিবর্তন ঘটানোর এক অনিঃশেষ প্রয়াস। ৩৯ বছর বয়সী এক মহাতারকার এক মহাজাগতিক রূপকথা। যেখানে নিজেকে উজ্জ্বল করার সঙ্গে সঙ্গে মেসি তুলে ধরেন বিশ্বকাপকে কেন বলা হয় “দ্য গ্রেটেস্ট শো অব দ্য আর্থ”।










