সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হলো, বাংলাদেশ আসলে কতটা বদলাবে। একাদশে হয়তো একটা মুখ বদলাতে পারে, শেখ মেহেদীর জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন প্রায় চার বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, যা মিডল অর্ডারে বাড়তি গভীরতা যোগ করতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিত নয় টিম ম্যানেজমেন্ট আদৌ এই পথে হাঁটবে কিনা, আর প্রশ্নটাও সেখানেই, শুধু নাম বদলালেই কি সমাধান মিলবে?
কারণ প্রথম টি-টোয়েন্টিতে যা দেখা গেছে, তার মূল কারণ কোনো একজন ক্রিকেটারের ব্যর্থতা নয়, বরং ব্যাটসম্যানদের মানসিকতায় টি-টোয়েন্টির তেজ আর তাগিদের অভাব। স্ট্রাইক ঘোরানোর প্রবণতা না থাকলে জুটি বড় হয় না, রানের চাকা থমকে যায়, আর তখনই প্রতিটি ওভার হয়ে ওঠে চাপের পাহাড়। বারবার লক্ষ্যের কাছাকাছি গিয়ে খালি হাতে ফেরার পেছনে এটাই আসল কারণ, স্রেফ সীমানার খোঁজে না থেকে এক-দুই রান নিয়ে স্ট্রাইক বদলানোর সহজ কাজটাই ঠিকঠাক হচ্ছে না। বোলিংয়েও একই ফাঁক স্পষ্ট। পুরো ইনিংস জুড়ে নিয়ন্ত্রিত ও কৃপণ বোলিং করেও শেষ কয়েক ওভারে রান বিলিয়ে দেওয়ায় পুরো ম্যাচের গতিটাই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের।
তাই সিরিজ বাঁচাতে হলে বাংলাদেশের করণীয় স্পষ্ট, একাদশে মুখ বদলাক বা না বদলাক। ব্যাটসম্যানদের শিখতে হবে কীভাবে চাপের মধ্যেও স্ট্রাইক ঘুরিয়ে জুটি টিকিয়ে রাখতে হয়, আর বোলারদের শিখতে হবে শেষ কয়েক ওভারেও শুরুর সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হয়। কাগজে-কলমে পরিবর্তন এলেও, এই দুই জায়গার ঘাটতি না মেটালে ফল বদলানো কঠিন।

আর প্রতিপক্ষও আগের মতো সহজ নয়। এ বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চেই জিম্বাবুয়ে হারিয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে তেইশ রানে, এরপর সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কাকে ছয় উইকেটে উড়িয়ে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে জায়গা করে নেয় তারা। এবার ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজ জিতে তাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। এমন এক বদলে যাওয়া, আত্মবিশ্বাসী প্রতিপক্ষের সামনে সিরিজ বাঁচাতে হলে বাংলাদেশকেও নামতে হবে জেতার মানসিকতা নিয়ে, কেবল ভালো খেলার আশা নিয়ে নয়।
তাই আসল লড়াইটা একাদশের কাগজে নয়, মাঠের মানসিকতায়। প্রশ্ন হলো, বদলে যাওয়া জিম্বাবুয়ের সামনে বাংলাদেশ কি নিজেদের পুরোনো অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে?











