বিশ্বকাপের হতাশায় ডুব দেওয়া একাদশ

পাহাড়সমান প্রত্যাশার চাপ নিয়ে বিশ্বকাপে ব্যর্থ হয়েছেন এক ঝাঁক তারকা। বড় বড় ক্লাবের জার্সিতে যাদের দেখে ফুটবল বিশ্ব মুগ্ধ হয়, সেই তারকারাই জাতীয় দলের হয়ে যেন নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন। ৪-৪-২ কম্বিনেশনে তাঁদের নিয়ে বিশ্বকাপের একটা ফ্লপ একাদশ বানিয়েছেঠ খেলা ৭১।

পাহাড়সমান প্রত্যাশার চাপ নিয়ে বিশ্বকাপে ব্যর্থ হয়েছেন এক ঝাঁক তারকা। বড় বড় ক্লাবের জার্সিতে যাদের দেখে ফুটবল বিশ্ব মুগ্ধ হয়, সেই তারকারাই জাতীয় দলের হয়ে যেন নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন। ৪-৪-২ কম্বিনেশনে তাঁদের নিয়ে বিশ্বকাপের একটা ফ্লপ একাদশ বানিয়েছেঠ খেলা ৭১।

গোলবারের নিচে সবচেয়ে হতাশার নাম ফার্নান্দো মুসলেরা। ৪০ বছর বয়সী উরুগুয়ের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ছিলেন ম্লান। স্পেনের বিপক্ষে ভয়াবহ এক ভুলের খেসারত দিতে হয় তাঁকে। বিরতির আগেই মাঠ ছাড়তে হয়, আর সেই ম্যাচের পরই শেষ হয়ে যায় উরুগুয়ের বিশ্বকাপ যাত্রা।

জার্মানির অধিনায়ক জশুয়া কিমিখের কাছেও প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু নেতৃত্বের পরীক্ষায় তিনি পাস করতে পারেননি। দলের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা ঢাকতে ব্যর্থ হন, আর শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের কাছে রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় নেয় জার্মানি।

সেনেগালের রক্ষণভাগে কালিদু কুলিবালির পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কম রেটিং পাওয়া ডিফেন্ডারদের একজন ছিলেন তিনি। বিশেষ করে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নকআউট পর্বে সেনেগালের রক্ষণ একেবারেই ভেঙে পড়েছিল।

প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত সময় কাটিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিলেন ব্রাজিলের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর অবস্থানগত ভুল বারবার ব্রাজিলকে বিপদে ফেলেছে। সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই প্রতিপক্ষ আঘাত করেছে, আর প্রত্যাশার অনেক আগেই বিদায় নিতে হয়েছে ব্রাজিলকে।

ফ্রান্সের থিও হার্নান্দেজও নিজের পরিচিত ছন্দ খুঁজে পাননি। যে আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য তিনি পরিচিত, বিশ্বকাপে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। উল্টো প্রতিপক্ষের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ সামলাতেই বারবার হিমশিম খেয়েছেন।

মাঝমাঠেও ছিল একের পর এক বড় নামের ব্যর্থতা। উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভালভার্দে রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডের প্রাণ হলেও বিশ্বকাপে ছিলেন পুরোপুরি নিষ্প্রভ। পর্তুগালের ভিতিনিয়ার অবস্থাও ছিল একই রকম। ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারেননি, সামনের দিকে কার্যকর পাস দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বারবার। ফলে কাগজে-কলমে শক্তিশালী পর্তুগালের আক্রমণভাগও অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে জায়গা পেয়েছেন ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও, এই বিশ্বকাপে তিনি নিজের সেই মানের ধারেকাছেও যেতে পারেননি।

আক্রমণভাগের ঠিক পেছনে খেলেও ব্রুনো ফার্নান্দেজ যেন ছিলেন অদৃশ্য। ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে এলেও, রবার্তো মার্তিনেজের কৌশলের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাননি। পুরো টুর্নামেন্টেই তাঁর প্রভাব ছিল প্রায় শূন্য।

সামনে ছিলেন দুই কিংবদন্তি—নেইমার জুনিয়র ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু দুজনেরই বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে হতাশার গল্প হয়ে। ব্রাজিলের আক্রমণে নেইমারের কাছ থেকে যে জাদু দেখার অপেক্ষায় ছিল সমর্থকেরা, তার দেখা মেলেনি। শারীরিকভাবে ছন্দহীন ছিলেন, দলকেও অনুপ্রাণিত করতে পারেননি।

অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রূপকথার মত বিদায়ের স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ছিলেন নিস্তেজ।  আর এই হতাশার একাদশের কোচ হিসেবে রাখা হয়েছে মার্সেলো বিয়েলসাকে। তাঁর অধীনে উরুগুয়ের কাছ থেকে বড় কিছু প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দলটি গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি। তাই বিশ্বকাপ শেষে সবচেয়ে বড় হতাশার তালিকায় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি জায়গা হয়েছে অভিজ্ঞ এই কোচেরও।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link