বিশ্বকাপ নিয়ে বাণিজ্যের ছক কষতে গিয়ে নিজের ঘরেই বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর একে একে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ফুটবল বিশ্বের কনফেডারেশনগুলো। উয়েফার পর একই পথে হেঁটেছে কনকাকাফও।
ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা ছিল ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যার অধীনে বিশ্বকাপসহ বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক দায়িত্ব একত্র করা হবে। প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যায়নের এই প্রতিষ্ঠানের একাংশ শেয়ার বিক্রি করে ৪২০ কোটি ডলার তোলার লক্ষ্য ছিল তাঁর, যেখানে বিনিয়োগকারী হিসেবে ছিল জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠান ‘থ্রাইভ ইটারনাল’— যাঁর সঙ্গে ট্রাম্প-জামাতা জ্যারেড কুশনারের পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে।
সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসে ইউরোপ থেকে। বৃহস্পতিবার এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে উয়েফাভুক্ত ৫৫টি দেশ সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়— ফিফা প্রস্তাব থেকে সরে না এলে তারা কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। উয়েফার ভাষায়, ‘কিছু বিষয় বিক্রির জন্য খুবই মূল্যবান। বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্পদ, আর তাই থাকবে।’ এই বয়কট কার্যকর হলে ঝুঁকিতে পড়বে আগামী গ্রীষ্মে ব্রাজিলে নারী বিশ্বকাপ এবং ২০৩০ সালে স্পেন-পর্তুগাল-মরক্কোর যৌথ আয়োজনে পুরুষদের বিশ্বকাপ। উদ্বেগ জানিয়েছে এশিয়াও— এএফসি প্রেসিডেন্ট শেখ সালমান সতর্ক করেছেন, এই একতরফা সিদ্ধান্ত মহাদেশীয় ফুটবলের ভিত্তিকেই দুর্বল করছে।

এর পরই একই পথে হাঁটল কনকাকাফ। তাদের ৪১টি সদস্য দেশই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, যদিও সরাসরি বয়কটের হুমকি দেয়নি। সংস্থাটির প্রশ্ন— ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক বিশ্বকাপের পরও কেন বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন, বরং ফিফার নিজস্ব রিজার্ভই কাজে লাগানো উচিত। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন সরাসরি জানিয়েছে, তারা কনকাকাফের পাশেই আছে।
ফিফার ২১১ সদস্য দেশের বড় অংশই এখন প্রস্তাবের বিপক্ষে। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলেও, একের পর এক প্রত্যাখ্যান ইনফান্তিনোর ওপর বিশাল চাপ তৈরি করেছে। আগামী মার্চে চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার কথা তাঁর, তবে মেয়াদ শেষে নবগঠিত এফএফই-তে প্রভাবশালী পদে বসার পরিকল্পনার গুঞ্জনও ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবল অঙ্গনে। বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ এখন ঝুলে আছে এই টানাপোড়েনেই।












