কল্পনা করুন, দলের এক নম্বর গোলরক্ষক হুট করে মিডফিল্ডার হয়ে গেলেন। গোল করতে ছুটলেন! অবিশ্বাস্য শোনালেও ঠিক এমনটাই ঘটেছিল লিভারপুলের পেপে রেইনার সাথে। গ্লাভস ছেড়ে সেদিন তিনি মধ্যমাঠে নেমেছিলেন প্রতিপক্ষের রক্ষণ দুর্গ কাঁপাতে।
এই রোমাঞ্চকর গল্পটা ২০০৬ সালের ৩০ জুলাইয়ের। লিশটেনস্টাইনে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে লিভারপুলের মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানির কাইজারস্লটার্ন। অলরেড শিবিরে নবাগত জার্মেইন পেনান্ট কিংবা ক্রেইগ বেলামিদের মতো তরুণদের পরখ করে নেওয়াই ছিল তখনকার লিভারপুল বস রাফা বেনিতেজের মূল লক্ষ্য। কিন্তু ম্যাচটি ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল একদম ভিন্ন এক কারণে।
মাঠের লড়াই তখন তুঙ্গে। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা চলছে, স্কোরলাইন ২-২। কিন্তু হঠাৎই শুরু হলো চোটের মিছিল। লুইস গার্সিয়া আর ফ্যাবিও অরেলিও ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়লেন। বদলি খেলোয়াড়ের কোটাও ততক্ষণে শেষ করে ফেলেছেন বেনিতেজ। অগত্যা এক বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত নিলেন কোচ। গোলরক্ষক পেপে রেইনাকে তিনি মাঠে নামিয়ে দিলেন মিডফিল্ডার হিসেবে।

প্রখ্যাত মিডফিল্ডার জাভি আলোনসোর ১৪ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামলেন এই স্প্যানিশ গোলকিপার। আর তারপরই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কিংবা ফরোয়ার্ডদের মতো আক্রমণাত্মকভাবে খেলে চমকে দিলেন সবাইকে। দুইবার গোলের খুব কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিলেন এই স্প্যানিশ তারকা। তার প্রথম শট অল্পের জন্য গোলপোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। আর বেলামির পাস থেকে পাওয়া দ্বিতীয় সুযোগটিও তিনি হাতছাড়া করেন বারের কিছুটা ওপর দিয়ে বল বাইরে পাঠিয়ে। সাইডলাইনে বসে থাকা কোচিং স্টাফরা তখন রেইনার ফিনিশিংয়ের চেষ্টা দেখে বিস্মিত হন, হাসিতে ফেটে পড়েন ধারাভাষ্যকাররাও।
ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত লিভারপুল ৩-২ গোলে হারলেও রেইনা জিতে নিয়েছিলেন সবার মন। ম্যাচ শেষে তার স্বীকারোক্তিও ছিল বেশ সরল ও বিনয়ী। তিনি বলেন, “বাধ্য হয়েই এক রকম মাঝমাঠে খেলতে হয়েছে। এখন অন্তত বুঝতে পারছি, গোল করা কতটা কঠিন!”
‘সুইপার কিপার’ ম্যানুয়েল নয়্যার বা এডারসনের মতো আধুনিক কিপাররাও যা করে দেখাতে পারেননি, রেইনা তা করে দেখিয়েছেন বহু আগেই। গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী থেকে ক্ষণিকের মিডফিল্ডার বনে যাওয়ার এই অবিশ্বাস্য গল্প ফুটবল ইতিহাসে রেইনাকে দিয়েছে এক অনন্য অবস্থান!











