অ্যালান ডোনাল্ড: এক বিদ্যুৎ গতির নায়ক

যদি ডোনাল্ড আরও আগে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারতেন, তাঁর উইকেটের সংখ্যা হয়তো আরও বেশি হত। তবু পেস বোলিংয়ের ইতিহাসে অ্যালান ডোনাল্ড এক অবিস্মরণীয় মহাকাব্যের নামই বলে পরিগণিত হবে!

চেহারায় সাদা জিংক ক্রিমের প্রলেপ, যেন এক যুদ্ধের সাজ! সঙ্গে দীর্ঘদেহী শরীর নিয়ে তিনি যখনই বোলিং রান-আপ শুরু করতেন, তখনই গ্যালারি স্তব্ধ হতে বাধ্য হতো। আর তারপরই শক্তিশালী বাহুর ঘূর্ণন আর বিদ্যুৎ গতির ঝড় তুলে বলের ডেলিভারি। এই দৃশ্যের নায়ক একজনই। কিংবদন্তি প্রোটিয়া বোলার অ্যালান ডোনাল্ড।

১৯৯১ সাল। ভারতের ইডেন গার্ডেন্সে এক লক্ষ মানুষের সমাগম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যাবর্তনের সেই ওয়ানডে ম্যাচে সকলে দেখলো এক বিস্ময়কর পেস সেনসেশনকে।

ঘরের মাঠে খেলতে নামা রবি শাস্ত্রী পা আর ব্যাট বাড়ালেন ঠিকই, কিন্তু ডোনাল্ডের নিঁখুত কাটার ততক্ষণে কিপারের গ্লাভসে। ১৯৮৩ সালের মার্শাল বা ১৯৮৭ সালের প্যাটারসনকেও হার মানাল এই গতি। গ্যালারি থেকে দেখা গেল শুধু ক্রিজের ওপর ধুলোর ওড়াউড়ি। আর ডোনাল্ড পেলেন ‘হোয়াইট লাইটনিং’ খেতাব!

বিশ্ব ক্রিকেট চিনল নতুন এক গতি দানবকে। সেই ম্যাচে মাত্র ২৯ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ডোনাল্ড জানান দিলেন তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের। প্রতিপক্ষের মাঠে এই পারফরম্যান্সের পর ফাইন লেগে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যালানের জন্য সেদিন গ্যালারির উদ্দীপিত চিৎকার শুনে গোটা দক্ষিণ আফ্রিকা দলই অভিভূত হয়েছিল।

এর আগের মৌসুমে ওয়ান্ডারার্স টেস্টে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন আপকেও ধসিয়ে দেন এই ডানহাতি পেসার। মাইক গ্যাটিংয়ের দলের বিরুদ্ধে দুই ইনিংসে ৩০ রানে ৪ এবং ২৯ রানে ৪ উইকেটের বিধ্বংসী স্পেল প্রমাণ করে ডোনাল্ডের গতিময় বল সফলভাবে মোকাবেলা করা ব্যাটারদের জন্য কতটা দুঃসাধ্য ছিল।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে আরও ভয়াবহ গতি নিয়ে ইডেনে ফেরেন ডোনাল্ড। বলের গতি দেখে গ্যালারি থেকে কেউ কেউ চিৎকার করে সেদিন বলেন, “একটু আস্তে করো ভাই, বল তো দেখতেই পাচ্ছি না!” সেদিন শচীন টেন্ডুলকারের ডিফেন্সিভ স্ট্রোকও কাজে আসেনি।

তবে ডোনাল্ড সবচেয়ে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন ডারবানে। ৫-৪০ আর ৪-১৪ এর সেই দুর্দান্ত স্পেল আজও ভারতীয় সমর্থকদের কাছে দুঃস্বপ্নের সমান। সেদিন ভারত গুঁড়িয়ে যায় ১০০ আর ৬৬ রানে।

ক্যারিয়ার শেষে ৭২ টেস্টে ৩৩০ উইকেট আর ২২.২৫ গড় ইকোনমি তাঁকে দিয়েছে কিংবদন্তির মর্যাদা। বর্ণবাদ ইস্যুর ঝক্কি পেরিয়ে যদি ডোনাল্ড আরও আগে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারতেন, তাঁর উইকেটের সংখ্যা হয়তো আরও বেশি হত। তবু পেস বোলিংয়ের ইতিহাসে অ্যালান ডোনাল্ড এক অবিস্মরণীয় মহাকাব্যের নামই বলে পরিগণিত হবে!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link