বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নামটা যদি একজনের হয়, সেটা তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি এই স্পিনারের হাত ধরেই দেশের ক্রিকেট বারবার দেখেছে ইতিহাসের নতুন পাতা। তাঁকে ঘিরে আরও একবার বড় স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার পেস স্বর্গে দাঁড়িয়ে স্পিন ভেলকি দেখাতে পারবেন কি তাইজুল?
সংখ্যাগুলো বলে দেয় তাঁর উচ্চতা কতটা। ৬০ টেস্টে ২৭০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এখন তাইজুল, ছাড়িয়ে গেছেন সাকিব আল হাসানকেও।
গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে যখন ২৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন, তখনই ইতিহাস লেখা হয়ে গিয়েছিল—পঁচিশ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এই কীর্তি আর কোনো বাংলাদেশি বোলারের ছিল না। এরপর জিম্বাবুয়ে সফরে হারারেতে ১৩৮ রানে সাত উইকেট নিয়ে ছাড়িয়ে যান বিদেশের মাটিতে সাকিবের সেই পুরোনো রেকর্ডও, একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের ঊনিশতম পাঁচ উইকেট শিকারে বসেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ফাইফারের তালিকার শীর্ষে। বাঁহাতি স্পিনারদের বিশ্ব তালিকাতেও এখন তিনি পঞ্চম স্থানে, পেছনে ফেলেছেন ভারতের কিংবদন্তি বিষেন সিং বেদিকেও।

তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটি অন্য গল্প বলে। বাউন্স আর গতির স্বর্গে সাধারণত স্পিনারদের ভূমিকা থাকে সীমিত, উইকেট এখানে পেসারদের জন্যই সাজানো থাকে বেশির ভাগ সময়। কিন্তু এখানেই আসল পরীক্ষা তাইজুলের—দীর্ঘ ওভারে ব্যাটসম্যানকে বেঁধে রাখার অভিজ্ঞতা, চাপের মুহূর্তে ধৈর্য ধরে রাখার ক্ষমতা, আর নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা—এসবই তাকে বানিয়ে তুলতে পারে এমন কন্ডিশনেও কার্যকর এক অস্ত্র। পেসারদের দাপটের মাঝে এক প্রান্তে বল হাতে চাপ ধরে রাখার কাজটা তাইজুলের চেয়ে ভালো আর কে করতে পারবেন এই দলে?
তিনশো উইকেটের মাইলফলক এখন দৃষ্টিসীমায়, আর সেই পথে অস্ট্রেলিয়ার এই সফরও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ। ইতিহাস গড়ার এই সফরে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে তাইজুলের অভিজ্ঞতাই কি তবে হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় নির্ভরতার জায়গা?

Share via:











