সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর প্রশাসনিক কক্ষগুলোতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এবারের মৌসুম শুরুর আগে এরই মধ্যে ২৪টি বড় পরিবর্তন এনেছেন রিয়াল মাদ্রিদে।
এবারের গ্রীষ্মে নতুন করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েই লস ব্ল্যাঙ্কোসদের কোচিংয়ের দায়িত্ব অভিজ্ঞ হোসে মরিনহোর হাতে তুলে দিয়েছেন পেরেজ। এরপর মার্ক কুকুরেয়া, বার্নার্ডো সিলভা আর ডেনজেল ডামফ্রিসদের এনে দলকে করেছেন শক্তিশালী। তবে সবচেয়ে বড় চমক ইয়ান দিওমান্দের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আসা।
১২৫ মিলিয়ন ইউরোর এই রেকর্ড সাইনিং রিয়াল মাদ্রিদের এবারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিনিয়োগ। সাত বছরের চুক্তিতে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের হয়ে খেলবেন তিনি। সাথে ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে ২০৩২ সাল অবধি চুক্তি নবায়ন করে সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় কোচের দায়িত্ব পাওয়া হোসে মরিনহো ক্লাবের আক্রমণভাগের দৃঢ়তা ধরে রেখেছেন। এনেছেন লেভান্তে থেকে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার কার্লোস এস্পিকেও।

রক্ষণে বিশ্বজয়ী স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার সঙ্গে ইব্রাহিমা কোনাতে এসেছেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। অ্যান্টনিও রুডিগারও আরও এক মৌসুম থাকছেন রিয়ালে।
কিন্তু এত সব আলোর মাঝেও একটি আক্ষেপ যেন কাটছেই না। টনি ক্রুসের বিদায়ের পর মাঝমাঠের সেই শৈল্পিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে রিয়ালের? ব্যালন ডি’অর এবং বিশ্বকাপ জয়ী রড্রি হার্নান্দেজকে দলে ভেড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করা নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। দিওমান্দের মতো তরুণ প্রতিভার পেছনে কয়েক মিলিয়ন ইউরোর বাজি ধরলেও রড্রির পেছনে ব্যয়ে সমস্যা কোথায় ছিল— বারবার ঘুরেফিরে আসছে এই প্রশ্ন।
এদিকে, পেরেজ এবার শুধু দলই গোছাননি, মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন ব্যবসায়িক বুদ্ধিতেও। একাডেমির ফুটবলারদের বিক্রি করে ক্লাবের কোষাগার পূর্ণ করেছেন তিনি। নিকো পাজকে ৬০ মিলিয়ন ইউরোতে বিক্রি করা ছিল এই গ্রীষ্মের অন্যতম সেরা ডিল।

এর সঙ্গে গনজালোকে ৪০ মিলিয়ন ইউরোতে ফুলহ্যামে বিক্রি করেছে রিয়াল, যার ৩০% একাডেমি রাইটস হিসেবে হোয়াইটসদের অ্যাকাউন্টে জমা হবে। অপর দিকে, রিয়াল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে দানি কারভাহাল ও ডেভিড আলাবার। চলতি মৌসুমে আর তাঁদের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি লস ব্ল্যাঙ্কোসরা।
অপর দিকে, কোচ আরবেলোয়া জুনেই দায়িত্ব ছেড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের। তিনি এখন ফুলহ্যামে থিতু হয়েছেন। প্রাক-মৌসুমে ইনজুরিতে পড়া থিয়াগো পিটার্কও আরবেলোয়ার ফুলহ্যামে ঠিকানা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টায় আছেন। রাউল অ্যাসেনসিও, এডুয়ার্ডো কামাভিঙ্গা ও এনড্রিককে মূল দলে রাখার পরিকল্পনা নেই মরিনহোর। তাই তাঁরা এখন রিয়াল ছাড়ার দৌঁড়ে।
ট্রান্সফার উইন্ডোর আরও ২৫ দিন বাকি। রিয়াল হয়তো আরও কয়েকটি দলবদলে অংশ নেবে। কিন্তু এবারের মৌসুমে ট্রান্সফার মার্কেটে রিয়ালের তুরুপের তাস হয়ে ওঠা দিওমান্দে কি পারবেন রড্রির অভাব ভুলিয়ে দিতে? নাকি মরিনহোর এই নতুন মিশনেও মাঝমাঠের সেই অপূর্ণতা থেকেই যাবে?











