মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাট সেদিন যেন বোবা হয়ে গিয়েছিল। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন আর ব্রিসবেনের সেই দুই টেস্টে বারবার ক্রিজে গিয়েছিলেন তরুণ আশরাফুল, বারবারই ফিরেছেন মাথা নিচু করে— চার ইনিংস মিলিয়ে ব্যাট থেকে এসেছিল মাত্র ৩০ রান, দুবার তো খাতাই খুলতে পারেননি।
শ্রীলঙ্কায় ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরির রেশ তখনও ব্যাটে লেগে ছিল, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বাউন্স আর গতি তাকে শিখিয়েছিল ক্রিকেটের নির্মম বাস্তবতা। দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হার— একটা প্রজন্মের চোখে যা ছিল দু:স্বপ্নের মতো এক সফর।
তেইশ বছর পর সেই মাঠেই আবার বাংলাদেশ। এবার আশরাফুল ব্যাট হাতে নয়, দাঁড়িয়ে আছেন ড্রেসিংরুমের ভেতরে, ব্যাটিং কোচের ভূমিকায়। ইতিহাস যেন তাকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছে— এবার নিজে নয়, তার হাতে গড়া ব্যাটারদের সেই পুরনো ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার সুযোগ। কিন্তু ডারউইনের মাঠ যেন আশরাফুলকে চিনতে ভোলেনি।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান তুলে কিছুটা আশা জাগিয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল, কিন্তু প্রতিপক্ষ ৩৫৫ রান করে ৯২ রানের লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ল তাসের ঘরের মতো— মাত্র ৫৪ রানে অলআউট, ইনিংস ও ৩৮ রানের লজ্জার হার। ক্যাম্পবেল থমসনের আট উইকেটের সামনে যেন সেই ২০০৩ সালের ছায়াই ফিরে এলো নতুন মুখে।
জিম্বাবুয়ে সফরেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা কম আলোচনা তৈরি করেনি— পুরো সফরে কোনো সেঞ্চুরি নেই, টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ দুটোই হাতছাড়া। সমালোচনার তীর তখনই ঘুরে গিয়েছিল আশরাফুলের দিকে। নিজেই বলেছিলেন, বাড়তি বাউন্সে মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে তার শিষ্যদের। এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই একই রোগ যেন আরও ভয়ংকর চেহারায় ফিরে এলো।
এরই মধ্যে ক্রিকেটপাড়ায় কানাঘুষা— পাকিস্তানের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফকে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার গুঞ্জন ও আলোচনা চলছে, যা আশরাফুলের চেয়ারকে করে তুলেছে আরও নড়বড়ে।

প্রশ্ন একটাই— যে মাঠ একদিন তরুণ আশরাফুলের ব্যাট থামিয়ে দিয়েছিল, সেই মাঠেই কি এবার কোচ আশরাফুল পারবেন তার শিষ্যদের ব্যাট সচল রাখতে, নাকি ফিরে আসবে প্রথম সফরের সেই দু:সহ স্মৃতি?











