পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা কঠিন। কিন্তু চূড়ায় টিকে থাকা কঠিনতম। বুদাপেস্টের সেই রোমাঞ্চকর রাত কিংবা উত্তর লন্ডনের উদযাপনে আর্সেনাল চূড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। বাইশ বছরের দীর্ঘ খরা কেটেছিল। কিন্তু ইতিহাস বলে, এই চূড়াই আর্সেনালের সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
১৯৩৫ সাল। সেই শেষবার আর্সেনাল পর পর দুই মৌসুমেই লিগ টাইটেল জিতেছিল। তারপর থেকে নয়টি দশক কেটে গেছে। এই নয় দশকে তারা বহুবার সিংহাসনে বসেছে। কিন্তু পরের বছরই ছিটকে গেছে। এই অদৃশ্য দেয়ালে মাথা কোটাই গানার্সদের ঐতিহাসিক অভিশাপ। এবার সেই অভিশাপ ভাঙার চ্যালেঞ্জ মিকেল আর্তেতার সামনে।
কিন্তু রাজত্ব ধরে রাখার এই যুদ্ধে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে দল। চোট আর ক্লান্তি এখন তাদের প্রধান শত্রু। বিশ্বকাপের ধকল সয়ে ফেরা ডেক্লান রাইসের শরীর আর টানছে না। গত মৌসুমের তীব্র যন্ত্রণা এখনও পিছু ছাড়েনি। ডিফেন্সের মূল ভরসা উইলিয়াম সালিবাও চোটের কারণে অনিশ্চিত সময়ের জন্য মাঠের বাইরে।

তবে আর্তেতা চ্যালেঞ্জটা ছেড়ে দেননি। তিনি জানেন, নতুন রাজত্ব গড়তে হলে দরকার নতুনত্বেরও। তাই নিউক্যাসল থেকে মাঝমাঠের লড়াকু যোদ্ধা ব্রুনো গুইমারেসকে দলে ভিড়িয়েছেন। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের চুক্তিতে সফল না হলেও আক্রমণে ধার বাড়াতে এনেছেন গ্রিক ফরোয়ার্ড ক্রিস্টোস জোলিসকে।
ফ্রেন্ডলি ম্যাচে আলো ছড়াচ্ছেন ১৬ বছরের বিস্ময় বালক ম্যাক্স ডাউম্যান। অভিজ্ঞদের চোটের দিনে এই তরুণই হতে পারেন আর্তেতার গোপন অস্ত্র।
মাঠের বাইরেও চলছে সমান্তরাল লড়াই। মালিক স্ট্যান ক্রয়েঙ্কি ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে এমিরেটস স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৭০ হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

তবে একটি বিষয়ে এবার আর্তেতাকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। গত মৌসুমে সেট-পিস বা ডেড-বল ছিল আর্সেনালের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশ্বকাপ পরবর্তী আরও উন্নত ভিএআর সংযোজনে এবার রেফারিরা বক্সের ভেতর তাদের প্রতিটা নড়াচড়ায় কড়া নজর রাখছে।
প্রতিপক্ষ দলগুলো যখন নতুন কোচ নিয়ে পথ খোঁজার চেষ্টা করছে, আর্তেতার সামনে তখন ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার সুযোগ। ৯০ বছরের পুরনো সেই অভিশাপের দেয়াল ভেঙে আর্সেনাল কি পারবে নিজেদের রাজত্ব ধরে রাখতে? এই উত্তরটাই ঠিক করে দেবে আর্তেতার গানার্সদের আসল পরিচয়।











