অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস বদলানোর মিশনে বাংলাদেশ!

ইতিহাস অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে, কিন্তু শেষবার মুখোমুখি হওয়ার গল্পটা ছিল বাংলাদেশের। এবার সেই স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কঠিন এক পরীক্ষায় নামছে বাংলাদেশ।

ইতিহাস অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে, কিন্তু শেষবার মুখোমুখি হওয়ার গল্পটা ছিল বাংলাদেশের। এবার সেই স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কঠিন এক পরীক্ষায় নামছে বাংলাদেশ।

১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে শুরু হবে দুই দলের প্রথম টেস্ট। দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট প্রত্যাবর্তন—তবে আলোচনার কেন্দ্রে শুধু ২৩ বছরের অপেক্ষা নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দলকে কতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বাংলাদেশ, সেটিই বড় প্রশ্ন।

টেস্টে এখন পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। অস্ট্রেলিয়ার জয় পাঁচটি, বাংলাদেশের একটি। ড্র হয়নি কোনো ম্যাচ। বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি ২০১৭ সালে মিরপুরে—২০ রানের সেই জয় আজও দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি মুহূর্ত।

কিন্তু এবার মিরপুর নয়, প্রতিপক্ষের মাটিতে লড়াই। আর অস্ট্রেলিয়াও নামছে প্রায় পূর্ণ শক্তির বোলিং আক্রমণ নিয়ে।

দীর্ঘ চোটের পর ফিরেছেন প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লায়ন। তাদের সঙ্গে মিশেল স্টার্ক। অর্থাৎ বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে একসঙ্গে থাকছে গতি, সুইং, বাউন্স আর অভিজ্ঞতার পরীক্ষা। নতুন বলে প্রথম কয়েকটি সেশন সামলানোই হতে পারে ম্যাচের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের ব্যাটিং তাই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে। সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তদের শুরুটা হতে হবে নিখুঁত। কারণ অস্ট্রেলিয়ার এই আক্রমণের বিপক্ষে শুরুতেই উইকেট হারালে চাপটা দ্রুত চলে যাবে পুরো ব্যাটিং লাইনআপের ওপর।

অন্যদিকে বাংলাদেশের বোলারদেরও অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। স্টিভ স্মিথ, মার্নাস লাবুশেন, ট্রাভিস হেডদের বিপক্ষে শুরুতেই উইকেট তুলে নিতে না পারলে বড় ইনিংসের পথে এগিয়ে যেতে পারে অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদদের তাই শুধু রান আটকানো নয়, নিয়মিত উইকেটের হুমকিও তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির জায়গা হতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড ফর্ম। প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করে তিনি দেখিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য তার আছে। এখন মূল পরীক্ষায় সেই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগানোর পালা।

অস্ট্রেলিয়া পরিষ্কার ফেবারিট—এ নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের সামনে লড়াইটা অসম্ভবও নয়। কারণ টেস্ট ক্রিকেটে একেকটি সেশনই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র।

১৩ আগস্ট তাই প্রশ্ন একটাই—অস্ট্রেলিয়ার ভয়ংকর বোলিং আক্রমণের সামনে বাংলাদেশ কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে? নাকি ২০১৭-এর সেই স্মৃতি আবারও নতুন করে আলোচনায় আসবে?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link