১০০-এর বেশি টেস্ট খেলা বিশ্বের একমাত্র ব্যাটার, যিনি এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর আজই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামলেন—মুশফিকুর রহিম। একুশ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে যে আক্ষেপটা বয়ে বেড়িয়েছেন, আজ সেই আক্ষেপ ঘোচানোর মঞ্চে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু নতুন বলের ঝড়ে ৩৬ রানেই থামতে হলো বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে।
চা বিরতির পর দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়েই যেন আগুন ঝরাতে শুরু করলেন মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড। কিছুক্ষণ আগেও যে ইনিংসটা বাংলাদেশের জন্য গর্বের গল্প হয়ে উঠছিল, নতুন বলের কয়েক ওভারেই সেটি পরিণত হলো ব্যাটিং ধসের গল্পে।
শুরুটা নাজমুল হোসেন শান্তকে দিয়ে। সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও ৮৪ রানে থামতে হলো অধিনায়ককে। হ্যাজলউডের বলে স্লিপে স্টিভেন স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন তিনি। এরপর লিটন দাস—১২ বল খেলে কোনো রান না করেই স্টার্কের বলে সেই স্মিথের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন।
তারপর ক্রিজে থাকা মুশফিকও খুব বেশিদূর যেতে পারলেন না। ৫৫ বলের ইনিংসে পাঁচটি চারে ৩৬ রান করে কামিন্সের বলে দ্বিতীয় স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন তিনি।
অর্থাৎ নতুন বল আসার পর মাত্র কয়েক ওভারেই বাংলাদেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার—শান্ত ৮৪, লিটন শূন্য আর মুশফিক ৩৬—ফিরে গেলেন। তিনটি ক্যাচই গেল স্টিভেন স্মিথের হাতে।
তবে এই ধাক্কার মাঝেও বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে স্বস্তির জায়গা আছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে শতাধিক রানের লিড নেওয়ার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। মুশফিক ফিরলেও দল তখনও এগিয়ে ১১৮ রানে।
একুশ বছরের আক্ষেপ ঘোচানোর দিনে তাই মুশফিকের গল্পটা শেষ হলো ৩৬ রানে। আর নতুন বলের ঝড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের জমাট ইনিংসটা হঠাৎ করেই নেমে এলো চাপের মুখে।













