ফলাফল কি হবে? নির্ধারিত হবে চতুর্থ দিনেই। বাংলাদেশের লিড থেকে এখনও ৬৭ রান দূরে অস্ট্রেলিয়া। হাতে আছে ছয়টি উইকেট। যত দ্রুত বাংলাদেশ উইকেটগুলো নিতে হবে, ততই রূপকথা জয়ের স্বপ্ন জোরদার হবে।
ডারউইনের তৃতীয় দিনটা অস্ট্রেলিয়া নিজেদের করে নিতে চেয়েছিল শুরু থেকেই। কিন্তু বাংলাদেশের টেলএন্ডাররা সে পরিকল্পনায় প্রথম কাঁটা বিঁধিয়ে দেন সকালেই। তাইজুল ইসলামের ঝড়ো ১৭ আর মিরাজের অবিচল দৃঢ়তায় শেষ কয়েকটি উইকেট গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য, বাংলাদেশ থামে ৪২৬ রানে, লিড দাঁড়ায় ২২৮ রানের।
জবাব দিতে নেমেই ঝড়ের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের প্রথম স্পেলেই উড়ে যায় দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান— জেক ওয়েদারাল্ড আর ট্রাভিস হেড, মাত্র ৩৭ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত স্বাগতিকরা। এরপর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন স্টিভেন স্মিথ আর মার্নাস লাবুশেন। ভাগ্যও যেন সহায় হয় তাদের, একের পর এক সুযোগ কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন প্রতিরোধ।

দিনের মধ্যভাগে পিচের চরিত্রও বদলাতে শুরু করে। যখন পেসাররা কিছুতেই কিছু করে উঠতে পারছিলেন না, ঠিক তখনই স্পিন-জাদুতে লাবুশেনকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। এরপর স্মিথ যখন ফিফটির দিকে ছুটছেন ভয়ংকর ছন্দে, তখনই ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ডে তাকে থামিয়ে দেন মিরাজ, ৮৮ বলে ৪৪ রানে থামে সেই ইনিংস।
দিনের বাকি সময়টা রানের চাকা প্রায় বন্ধ করে দিয়ে অস্বস্তিতে রাখে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে, ক্যামেরুন গ্রিন আর অ্যালেক্স ক্যারি জুটি বেঁধে টিকে থাকলেও উইকেট আর আসেনি। তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া ১৬১ রানে ৪ উইকেট, এখনো পিছিয়ে ৬৭ রানে।
চতুর্থ দিনের সকালটাই এখন হয়ে উঠছে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক। পিচের সহায়তা আর বোলারদের বিচক্ষণতায় শুরুতেই আঘাত হানতে পারলে আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে অস্ট্রেলিয়া, আর সেখান থেকেই লেখা হতে পারে ডারউইন টেস্টের ভাগ্য।












