কলম্বোর পঞ্চম দিনে শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধ যেন এক অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়াল ভারতের সামনে। সিরিজ জিতেও যে জয় অসম্পূর্ণ থেকে গেল, তার মাশুল গুনতে হচ্ছে এখন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে। ২৪ পয়েন্টের বদলে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ভারত এখন পয়েন্ট তালিকায় পাঁচে, পিসিটি ৫১.৫২ শতাংশ—একটা সংখ্যা যা এক লাফে সহজ পথকে বদলে দিয়েছে কঠিন পাহাড়ে।
তবু হাল ছাড়েননি শুবমান গিল। কলম্বো টেস্ট শেষে ভারত অধিনায়কের কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, ‘আমি এখনও মনে করি আমাদের ফাইনালে ওঠার বেশ ভালো সুযোগ আছে।’ নিউজিল্যান্ড সফর আর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ—এই সাত টেস্টের ওপরই এখন নির্ভর করছে ভারতের ভবিষ্যৎ। সাতটিতে জিতলে পিসিটি দাঁড়াবে ৭০.৩৭ শতাংশে, যা প্রায় নিশ্চিতভাবেই খুলে দেবে ফাইনালের দরজা। ছয়টি জয় আর একটি হারেও আশা টিকে থাকবে, পিসিটি পৌঁছাবে প্রায় ৬৫ শতাংশে, যদিও তখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের ফলাফলের দিকেও।
কিন্তু নিউজিল্যান্ডে দুটি টেস্টই হেরে গেলে ছবিটা বদলে যাবে সম্পূর্ণ। তখন অস্ট্রেলিয়াকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েও ভারতের পিসিটি থামবে ৫৯.২৬ শতাংশে—যথেষ্ট নয় নিশ্চিন্ত থাকার জন্য। ইতিহাস অবশ্য বলছে, চূড়ান্ত সীমারেখা সবসময় এক জায়গায় স্থির থাকে না। আগের চক্রে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৯.৪৪ আর অস্ট্রেলিয়া ৬৭.৫৪ শতাংশ নিয়ে ফাইনাল খেলেছিল, তার আগের চক্রে ভারত নিজেই ৫৮.৮০ শতাংশ নিয়ে পৌঁছেছিল ফাইনালে।

বাংলাদেশও এই দৌড়ে নিঃশব্দে টিকে আছে, বরং টেবিলে অবস্থানটা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। ছয় ম্যাচে চল্লিশ পয়েন্ট নিয়ে পিসিটি ৫৫.৫৬ শতাংশ—ভারতের চেয়েও এগিয়ে, টেবিলে চতুর্থ স্থানে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ হওয়ায় চক্রে এখন বাকি ছয়টি টেস্ট, ঘরের মাঠে দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, আরও দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফেব্রুয়ারিতে, আর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাকি দুটি নভেম্বরে।
ঘরের চার টেস্টের সবকটি জিততে পারলেই পিসিটি উঠে যাবে ৭৩.৩৩ শতাংশে। তার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্তত একটি জয় যোগ হলে সংখ্যাটা দাঁড়াবে ৭৫.৭৬ শতাংশে, আর ছয়টিতেই জিতলে ৭৭.৭৮ শতাংশ—এমন সংখ্যা নিয়ে ইতিহাসে এখনও কোনো দল ফাইনালের বাইরে থাকেনি। তবে পথটা মসৃণ নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা আর ইংল্যান্ডের দুই দলই সহজ নয় বাংলাদেশের জন্য, তাই ভুলের জায়গা বলতে গেলে নেই।
দুইবার ফাইনালে উঠেও ট্রফির স্বাদ পায়নি ভারত—২০১৯-২১ চক্রে নিউজিল্যান্ডের কাছে, ২০২১-২৩ চক্রে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের যন্ত্রণা এখনও তাজা। এবার প্রতিপক্ষ সেই অস্ট্রেলিয়াই, ঘরের মাঠে, পাঁচ টেস্টের দীর্ঘ পরীক্ষায়। গিলের দল কি পারবে সেই পুরনো ক্ষতে প্রলেপ দিতে, নাকি লিটন-শান্তরাই চতুর্থ স্থান থেকে চমকে দেবেন গোটা উপমহাদেশকে—ফাইনালের মঞ্চ শেষ পর্যন্ত কার হাতে ধরা দেবে?












