কিছুদিন আগেও যিনি বর-কনের সামনে বসে তিনবার ‘কবুল’ শব্দটা শোনার অপেক্ষায় থাকতেন, আজ তিনিই অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দাঁড়িয়ে ব্যাটসম্যানদের মুখ থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছেন উইকেট। মোহাম্মদ রুবেলের জীবনটা যেন দুই ভিন্ন গল্পের সেলাই করা এক জামা—একদিকে বিয়ের রেজিস্ট্রি খাতা, অন্যদিকে বোলিং ফিগারের পাতা।
প্রায় দেড় দশক ধরে কাজীর পেশায় ছিলেন রুবেল। ক্লাস এইট-নাইনে পড়ার সময় মামাকে সাহায্য করতে গিয়ে প্রথম বসেছিলেন সেই আসনে, তারপর এক জীবনে ছয় হাজারেরও বেশি বিয়ে পড়ানোর গল্প জমা হয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
মানুষের নতুন সংসারের সূচনা লিখতে লিখতেই সমান তালে চালিয়ে গেছেন ক্রিকেট—সেকেন্ড, ফার্স্ট ডিভিশন, এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে নজর কাড়া, শেষ মুহূর্তে বিপিএল ড্রাফটে ঠাঁই পেয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হওয়া। কিন্তু সেই পরিচয়টা এতদিন ছিল কৌতূহলের বিষয়, প্রধান খবর নয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটি সেই সমীকরণটাই বদলে দিল।

টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ম্যাচেই নেপাল ‘এ’-এর বিপক্ষে ১৮ রানে চার উইকেট নিয়ে জানান দেন, তিনি নেহাত পার্টটাইম শখের ক্রিকেটার নন। এরপর হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমির বিপক্ষে তিন, ভিক্টোরিয়া একাডেমির বিপক্ষে চার—চার শিকারই বোল্ড করে, যেন প্রতিটা স্টাম্প উপড়ে নিজের নামটা খোদাই করে দিচ্ছিলেন।
অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমির বিপক্ষে ইকোনমি একটু বাড়লেও তিন উইকেট ঠিকই জমা পড়ে খাতায়। নিউজিল্যান্ড ‘এ’-এর বিপক্ষে একটাই উইকেট পেয়েছিলেন, টুর্নামেন্টে এই একবারই তাঁর শিকার তিনের নিচে নামে—যেন বিরতি নিয়েছিলেন পরের ঝড়ের জন্য। কারণ নর্দার্ন টেরিটরির বিপক্ষে যা করলেন, তাতে ধারাভাষ্যকারদের ভাষাও ফুরিয়ে আসার জোগাড়।
প্রথম ওভারে এক উইকেট, দ্বিতীয় ওভারে দুই, আর পনেরোতম ওভারে মাত্র এক রান দিয়ে আরও দুই—চার ওভারে ২১ রানে পাঁচ উইকেট, ফাইফার। ছয় ম্যাচে মোট বিশ উইকেট, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিরল এক কীর্তি।

যে মানুষটা এতদিন অন্যের বিয়ের সাক্ষী হয়েছেন, আজ তিনিই যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন এক অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে উঠছেন। জাতীয় দলের দরজায় তাঁর নাম নিয়ে আলোচনা এখন আর ফিসফিসানি নয়, রীতিমতো জোর দাবি।
বিয়ের কাজী থেকে জাতীয় দলের দরজায়—রুবেলের এই যাত্রা প্রমাণ করে প্রতিভা কখনও লুকিয়ে রাখা যায় না, সেই প্রতিভাকে খোদ টপ এন্ড টি-টোয়েন্টির ধারাভাষ্য কক্ষ থেকেই বিগ ব্যাশে খেলানোর দাবি পর্যন্ত উঠেছে। তাই, অনন্ত জাতীয় দলের জার্সি পাওয়াটা রুবেলের জন্য এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।











