এই অল-অ্যাটাকিং চেলসিকে আটকাবে কে?

আজ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির ৪-৩ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয়টি শুধু তিনটি পয়েন্টই এনে দেয়নি। সেই সাথে প্রমাণ করে দিয়েছে জাবি আলোনসো ডাগআউটে আসতেই ব্লুজদের ফুটবলে কতটা বড় পরিবর্তন এসেছে। 

আজ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির ৪-৩ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয়টি শুধু তিনটি পয়েন্টই এনে দেয়নি। সেই সাথে প্রমাণ করে দিয়েছে জাবি আলোনসো ডাগআউটে আসতেই ব্লুজদের ফুটবলে কতটা বড় পরিবর্তন এসেছে।

মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ফুলহামের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জিতলেও স্কোরলাইনের আড়ালে মূল উদ্বেগের জায়গা ছিল গোলকিপিং। পুরো ম্যাচ জুড়ে চেলসির দাপট থাকলেও রবার্তো সানচেজের দুটি সহজ ভুলে গোল হজম করতে হয়েছিল। জাবি আলোনসো এই দুর্বলতা চোখ বুজে সহ্য করেননি।

তিনি দ্রুততম সময়ে অ্যাস্টন ভিলা থেকে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে দলে নিয়ে আসেন এবং আজ ব্রাইটনের বিপক্ষেই তাকে একাদশে নামিয়ে দেন। আজ চারটি দুর্দান্ত সেভের পাশাপাশি ৭.৯  রেটিং পেয়ে মার্টিনেজ প্রমাণ করেছেন, আলোনসোর এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত কতটা নির্ভুল ছিল।

​জাবি আলোনসোর প্রিয় ও সিগনেচার ফরমেশন হলো ৩-৪-২-১। এই ম্যাচে ব্রাইটনের বিপক্ষে আলোনসোর সাজানো একাদশ এবং খেলার ধরণ সেই মাস্টারপ্ল্যানের শতভাগ প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

ডিফেন্সে ওয়েসলি ফোফানা, ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া এবং লেভি কলউিলকে নিয়ে ব্যাক থ্রি গঠিত হয়। সাথে গোলকিপার মার্টিনেজ মিলে পিছন থেকে বল কন্ট্রোল ও বিল্ড আপের সময় টেম্পো নিয়ন্ত্রণ করছেন। আক্রমণে যাওয়ার মুহূর্তে চেলসি ফ্লুইডলি ৩-২-৫ আকারে রূপ নেয়, যেখানে উইং ব্যাকরা অত্যন্ত উপরে উঠে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ লাইনকে চওড়া করে দেয়।

ডান উইং ব্যাক হিসেবে পেদ্রো নেতো এবং বাম উইং ব্যাক হিসেবে জোর্ল হাটো অত্যন্ত গতিময় ও হাই প্রেসিং ফুটবল খেলেছেন। তাঁরা মাঠের চওড়া অংশে আক্রমণ গড়ার পাশাপাশি বক্সে সরাসরি চাপ তৈরি করছেন। অন্যদিকে মাঝমাঠে মালো গুস্তো ও রোমিও লাভিয়া ডাবল পিভট হিসেবে সেন্টার সামলেছেন। লাভিয়া সেন্ট্রাল কভার দেওয়ার পাশাপাশি চার মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে শুরুতেই এগিয়ে নেন।

আলোনসোর এই সিস্টেমের সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ হলো ফ্রন্ট থ্রি। স্ট্রাইকার জোয়াও পেদ্রোর ঠিক পেছনে হাফ স্পেসের দুই পকেটে খেলেছেন কোল পালমার এবং মরগান রজার্স।

​পালমার, রজার্স এবং জোয়াও পেদ্রোর এই অ্যাটাকিং ট্রায়ো যেন বার্সেলোনার ঐতিহাসিক মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ যুগের গতিশীলতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তাদের মধ্যকার ফ্লুইডিটি এতটাই নিখুঁত যে, যেকোনো মুহূর্তে একজন অন্যজনের পজিশনে সুইচ করছেন।

এর ফলে ব্রাইটনের ডিফেন্ডারদের পক্ষে কাকে ম্যান মার্ক করবেন তা বোঝা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। রজার্স ও পালমার সেন্ট্রাল স্পেস ওভারলোড করে প্রতিপক্ষের জোনাল ব্লক ভেঙেছেন, আর জোয়াও পেদ্রো চমৎকার ড্রপ ডাউন এবং স্পেস তৈরি করে নিজে ৩২ মিনিটে চমৎকার গোল করেছেন। বক্সের বাইরে থেকে শটে চেলসি সমর্থকদের উৎসবে মাতিয়েছেন পালমারও।

​​তবে তিনটি গোল হজম করা স্পষ্ট বলে দেয়, আলোনসোর ব্যাক লাইনের ডিফেন্সিভ অর্গানাইজেশনে এখনো কিছুটা কাজ বাকি। জাবি আলোনসো যদি দ্রুততম সময়ে ডিফেন্সের এই সামান্য ঘাটতিটুকু শুধরে নিতে পারেন, তবে চলতি মৌসুমে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ দুমড়ে-মুচড়ে অল অ্যাটাকিং ফুটবলের একচ্ছত্র রাজত্ব করতে যাচ্ছে চেলসি।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link