বাবর আজম ফিরলেন একেবারে অধিনায়ক হয়েই। টেস্টে পাকিস্তান ক্রিকেটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব কাঁধে ছিল তাঁর। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের গল্পটা হতাশা দিয়েই শুরু হলো। অধিনায়কত্বে ফিরে প্রথম ম্যাচেই হার, আর ব্যাট হাতে বাবর নিজেও ব্যর্থ। যে বাবরকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখেছিল পাকিস্তান, সেই বাবরের হাত ধরেই অন্তত প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে হোঁচট খেল পাকিস্তান।
একসময় পাকিস্তানের ক্রিকেট মানেই ছিলেন বাবর আজম। তর্ক পাশ কাটিয়ে রাখলে এখনও আছেন। তবে শেষ কিছু বছর ক্রিকেট তাঁকে উপহার দিচ্ছে একের পর এক দুঃসহ স্মৃতি। তবে একটা বিশ্বাস ছিল বাবরের ওপর। সোনালি সময়টা পারলে তিনিই ফেরাতে পারবেন। তবে ইংল্যান্ডের কাছে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের বিশাল পরাজয় সন্দেহ প্রকাশ করল বাবর আদৌ পারবে তো?
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে চোটের কারণে ছিলেন না। পাকিস্তান হেরেছিল বড় ব্যবধানে। দ্বিতীয় টেস্টে ফিরলেন তিনি। শুধু ব্যাট হাতে নয়, অধিনায়ক হিসেবেও। শান মাসুদের কাছ থেকে নেতৃত্ব ফিরিয়ে দিয়ে আবারও বাবরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের দায়িত্ব। মনে হয়েছিল, পরিচিত মুখ, পরিচিত নেতা, হয়তো এবার বদলাবে গল্পটা।
বদলায়নি। লর্ডসে ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ১৯৪ রানে হেরে গেল। সিরিজও হাতছাড়া হলো ২-০ ব্যবধানে। আর এই হারের সবচেয়ে বড় আক্ষেপের জায়গাগুলোর একটি হয়ে থাকলেন বাবর নিজেই।

ইংল্যান্ড যখন প্রথম ইনিংসে ২৯০ রান তুলেছে স্কোরবোর্ডে, জবাবে পাকিস্তান আত্মাহুতি দিয়েছে ১১০। মিডল অর্ডারে হাল ধরার জন্য বাবরকে কাণ্ডারি হতে হতো। তবে ব্যক্তিগত খাতায় আট রান তুলেই তিনি ফিরে গিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও গল্পটা বদলায়নি। ১৮০ রানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড পরের ইনিংসে যোগ করে ২০৮ রান। ৩৮৯ রানের পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে এবারও বড় দায়িত্ব নিতে হতো বাবরকেই। সেখানে মোটে ছয় রান করেই থেমেছে তাঁর ইনিংস। সৌদ শাকিলের ৯৭ কিছুটা মান বাঁচিয়েছে বটে, তবে ১৯৪ রানে পরাজয়টা এড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
এখানেই যেন বাবরকে ঘিরে পুরোনো প্রশ্নগুলো আবার সামনে চলে এলো। কোথায় সেই বাবর? ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ খেলা টেস্টে ৮৮ রানের একটা ইনিংস ছিল ব্যাটে। তবে সবচেয়ে বড় চিন্তার, প্রায় ১৩০০ দিনের বেশিও বাবর টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি-বঞ্চিত। দেশসেরা ব্যাটারের এমন ফর্ম নিশ্চয় আশাহত করবে যে কোনো পাকিস্তানি সমর্থককে।
অথচ এই বাবরকেই আবার অধিনায়ক করা হয়েছে। শান মাসুদের অধীনে পাকিস্তানের ব্যর্থতার পর নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হলো। কিন্তু নেতৃত্ব বদলালেও যদি দলের ভাগ্য না বদলায়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই, সমস্যাটা কি আসলে অধিনায়কে? নাকি সমস্যাটা আরও গভীরে?
পাকিস্তানের ব্যর্থতার দায় অবশ্য বাবরের একার নয়। দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানো, চাপ সামলাতে না পারা, সব মিলিয়েই এই পরাজয়। কিন্তু বাবর যেহেতু অধিনায়ক, যেহেতু তিনি দলের সবচেয়ে বড় তারকা, তাই তাঁর ব্যর্থতাই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।

আর সেই কারণেই লর্ডসের এই হার বাবরের জন্য সাধারণ কোনো পরাজয় নয়। এটি তাঁর দ্বিতীয়বারের নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তনের প্রথম পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় আপাতত তিনি ব্যর্থ।










